সৈয়দপুরে পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে ‘মানি লজিক’ উধাও

প্রতারণানীলফামারীর সৈয়দপুরে সাতশ গ্রাহকের শেয়ারের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে মানি লজিক ই-মল লিমিটেড নামে একটি হায় হায় কোম্পানি। প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা সৈয়দপুর থানায় লিখিত অভিযোগে করেন। সৈয়দপুর থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মানি লজিক ই-মল লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি সৈয়দপুর প্লাজার দ্বিতীয় তলায় শাখা অফিস হিসেবে ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। অফিসটি পরিচালনার দায়িত্ব নেন শহরের চাঁদনগরের নুর ইসলাম পাপ্পু, পুরাতন বাবু পাড়ার মো. মুন্না, আতিয়ার কলোনির খন্দকার গোলাম মাওলা, কয়ানিজপাড়ার সাদেকুল ইসলাম সাদেক, খেজুরবাগ মসজিদ এলাকার আহাদ আলী, চাঁদনগরের জামিল ও আরফিন শুভ।
তারা সুকৌশলে শহরের মিনা বাজার, স্বপ্ন, আগুরার মতো শপিং মল গড়ে তোলে ২৫ হাজার টাকা হিসেবে একটি করে শেয়ারের জন্য গ্রাহক তৈরি করে। শর্ত হিসেবে ওই শেয়ার প্রদানকারীকে মাসিক দুই হাজার পাঁচশ টাকা মুনাফা দেওয়া হবে। এই মুনাফার লোভে অনেকেই ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত শেয়ারের টাকা ওই চক্রের হাতে তুলে দেন।

প্রথম তিন তিন মাস মুনাফার টাকা দিয়ে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে থাকে মানি লজিকের চক্রটি। পরে চলতি বছরের ৩ জুন অফিসের একটি অংশে শপিং মল চালু করে। ফলে শেয়ারকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যায়।

শপিং মল চালুর কয়েকদিনের মাথায় এক রাতে সব মালামাল নিয়ে উধাও হয় মানি লজিকের সৈয়দপুর অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। পরদিন শেয়ার প্রদানকারী অফিস তালাবদ্ধ দেখে মাথায় হাত পড়ে শেয়ার ক্রেতাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কর্মকর্তারা এখন ঢাকায় অবস্থান করছে। সেখান থেকে শেয়ার ক্রেতাদের দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দিন পার করে।

অবশেষে শেয়ার ক্রেতাদের পক্ষে আ. আহাদ নিজে বাদী হয়ে ২৪ আগষ্ট সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে মুক্তিযোদ্ধা জিকরুল হক চলতি বছরের ১৭ জুলাই বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

মুক্তিযোদ্ধা জিকরুল বলেন, ‘প্রতারণার শিকার হয়েছেন পাঁচ জন মুক্তিযোদ্ধাও। শেয়ারের টাকা ফেরত না পেলে আমরা প্রতারক চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার ওসি আমিরুল ইসলাম অভিযোগের ব্ষিয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’