মূল সড়কে পাশাপাশি ২ পশুর হাট, যানজটে নাকাল নগরবাসী

চট্টগ্রামে মূল সড়কের ওপর গরুর হাট

শর্ত অমান্য করে মাত্র একশ’ মিটারের ব্যবধানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকার মূল সড়কের ওপর বসানো হয়েছে কোরবানির পশুর হাট। নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং থেকে কাঠঘর পর্যন্ত সড়কে এ পশুর হাট দুটি বসিয়েছেন ইজারাদাররা। এ কারণে ওই সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, পশুর হাট ইজারা দেওয়ার সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন শর্ত দিয়েছিল, হাট বসিয়ে গাড়ি ও জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। কাগজে কলমে এই শর্ত থাকলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই চট্টগ্রামে।

এ ব্যাপারে নগরীর কাঠঘর এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ জানান, পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছিলাম এ বছর সড়কের পাশে পশুর হাট বসবে না। কিন্তু সিমেন্ট ক্রসিং থেকে কাঠঘর পর্যন্ত সড়কে দুটি পশুর হাট বসানো হয়েছে। যার কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সিমেন্ট ক্রসিং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার মূল সড়কের দু’পাশে গরুর বাজার বসানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে সড়কের ওপর গরুর হাট

চসিক সূত্রে জানা যায়, ৯২ লাখ এক হাজার টাকায় স্টিলমিল বাজার ইজারা নেন নুর মোহাম্মদ। কেইপিজেড হতে জিএম গেইট পর্যন্ত চলাচলের রাস্তা ব্যতীত বাজারটি  বাসানোর অনুমতি দিয়েছিল করপোরেশন। অন্যদিকে ইপিজেড থানা এলাকার ভেতরে সল্টগোলা পশুর হাট বসানোর জন্য ২৮ লক্ষ ২৬ হাজার একশ’ টাকায় আরেকটি পশুর হাটের ইজারা দেয় চসিক। করপোরেশন চলাচলের রাস্তা ব্যতীত ইপিজেড থানা এলাকার ভিতরে বাজারটি বসানোর নির্দেশনা দিলেও, সল্টগোলা পশুর হাটের ইজারাদার মো. ইউনুছ সিমেন্ট ক্রসিং থেকে নারিকেলতলা পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে হাট বসিয়েছে। নারিকেলতলা থেকে একশ ফুট দক্ষিণ পাশ থেকে জিইসি কোম্পানির গেইট পর্যন্ত বাজার বসায় স্টিমিল বাজারের ইজারাদার নুর মোহাম্মদ।

এ ব্যাপারে স্টিলমিল বাজারের ইজারাদার নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘ইপিজেড থানার ভেতরের এলাকায় সল্টগোলা বাজার বসানোর নির্দেশনা ছিল বলে মাত্র ২৮ লাখ টাকায় তারা বাজারটি ইজারা পান ওই হাটের ইজারাদাররা। যদি সিমেন্ট ক্রসিংয়ে বাজার বসানোর কথা বিজ্ঞপ্তিতে থাকতো তাহলে মিনিমাম এক থেকে দেড় কোটি টাকা বাজারের দাম উঠতো। কিন্তু তারা সিমেন্ট ক্রসিং থেকে বাজার বসিয়েছে।’

নির্ধারিত স্থানে না বসানো ও রাস্তা দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. ইউনুছ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করপোরেশনের সাথে কথা বলেই বাজার বসিয়েছি। ইপিজেড থানার ভিতরের জায়গায় বন্দরের কাজ চলছে। সেখানে জায়গা না থাকায় এখানে রাস্তার পাশে বাজার বসানো হয়েছে। মূল সড়কের বাইরে বাজার বসানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সড়কে পশুর হাট বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়ক অবরোধ করে বাজার বসানো যাবে না। এ ব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা ছিল। যদি কোনও ইজারাদার সড়কের ওপর বাজার বসিয়ে থাকেন, আমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’ ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ওইসব বাজার উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানান তিনি।