খুলনা বিভাগের ৪৫ শতাংশ সড়কের বেহাল দশা

খুলনাসড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় খুলনা বিভাগে দুই হাজার ৭৩৪ কিলোমিটার সড়কের ৮২০ কিলোমিটার মহাসড়কই রয়েছে বেহাল দশায়। যা মোট সড়কের ৪৫ শতাংশ। অতিবৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়কগুলোর বিটুমিন উঠে খানাখন্দেরও সৃষ্টি হয়েছে।  এ অবস্থায় ঈদে ঘরমুখো মানুষকে ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী  মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘ভারি বর্ষণে, সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং ওভারলোড নিয়ে যানবাহন চলাচলের কারণে বিটুমিন উঠে সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
সওজ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জোনের আওতায় ১২৭টি রুটে জাতীয়, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে দুই হাজার ৭৩৪ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ৩৮৫, বাগেরহাটে ৩৯৭, সাতক্ষীরায় ২৫৩, চুয়াডাঙ্গায় ১৪১, যশোর ৩৫৬, ঝিনাইদহ ৩৯৮, কুষ্টিয়ায় ২৬১, মাগুরা ২৫১, মেহেরপুর ১৩৯ এবং নড়াইলে ১৫৩ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের ৪৫ শতাংশেই খানাখন্দ ও ছোট বড় গর্ত।  এসব সড়কের বেশির ভাগই খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ জেলার। খুলনা-যশোর, খুলনার রূপসা-বাগেরহাট, খুলনা-মংলা, খুলনা-পাইকগাছা, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের অধিকাংশ স্থান টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির টানে খোয়া সরে যাওয়ায় সড়কগুলোর এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

খুলনা থেকে মংলার যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, ‘রূপসা-মংলা সড়কের দিগরাজ নাভানা কোম্পানি, ফয়লা বিমানবন্দর ও চেয়ারম্যানের মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।’

সাতক্ষীরার জবেদা খাতুন বলেন, ‘খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানের বিটুমিন উঠে গেছে। সংস্কার না হওয়ার কারণে সড়ক জুড়েই ছোট ছোট গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যা ক্রমেই আকৃতিতে বড় হচ্ছে। খুলনা থেকে চুকনগর পর্যন্ত সড়কের অবস্থা বেশি খারাপ। যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী।’

পিরোজপুরের নিয়মিত যাত্রী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘রূপসা-পিরোজপুর সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কের বিভিন্ন স্থানেই রয়েছে খানাখন্দ। এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।’

সড়ক ও জনপথ খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী  মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘৩০ থেকে ৪০ বছর আগে এসব সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। অবকাঠামো ভালো নয় আর সড়কগুলো বাজার সংলগ্ন এলাকায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নেই। এছাড়া বৃষ্টি ও ভারী পণ্যবাহী গাড়ির চাপে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এসব সড়ক চলাচলের উপযোগী রাখতে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া প্রয়োজন।