এবারের কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ২টি স্থায়ী, ৫টি অস্থায়ী এবং জেলার ১০ উপজেলায় ১৮টি অস্থায়ী পশুর হাটে গরু-ছাগল বিক্রির জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব হাটে যশোর, কুষ্টিয়া ও খুলনা থেকে গরু আমদানি করেছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারা জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় এ বছর গরু-ছাগলের দাম অনেকটাই চড়া।কাঞ্চন নামের এক খামারিও জানালেন, গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরুর দামেও তার প্রভাব পড়েছে। গত বছর যে কুড়ার দর ছিল ২০ টাকা কেজি, এবছর তা ৩২-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ড. মো. হেমায়েতউদ্দিন আহমেদের মতে, জেলার খামারিদের যে পরিমাণ গরু হাটে উঠেছে, তাতে সহজেই জেলার কোরবানির পশুর চাহিদা মিটে যাবে।
নগরীর হাটখোলা এলাকাধীন নিউ কসাইখানা এবং বাঘিয়ার রয়েছে স্থায়ী গরুর হাট। এছাড়া,কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের পাশ্ববর্তী নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোডের উপজেলা পরিষদের বিপরীতে এনায়েত উল্লাহ হাউজিং, নগরীর টিয়াখালী, কালিজিরা, কাশিপুর এবং বারৈজ্যার হাটের বাইরেও নগরী সংলগ্ন সুগন্দিয়া, চরমোনাই, সাহেবেরহাট, গৌরনদীর কসবা, উজিরপুর-বানারীপাড়ার সীমান্তবর্তী গুয়াচিত্রা, বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়ায় অস্থায়ী হাট বসেছে। এসব হাটের বাইরে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮টি পশুর হাট বসেছে।
কয়েকজন বিক্রেতা জানিয়েছেন, এবারে কোরবানির হাটগুলোতে গরু আমদানি ২/১ দিন আগে থেকে শুরু হয়েছে। এখন হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও সামনে আরও আমদানি হবে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার গরুর হাট জমজমাট হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন তারা। কসবা গো-হাটের ক্রেতা মো. নূরুজ্জামান সরদার জানান, হাট ঘুরে মাঝারি আকারের দেশি গরুতেই ক্রেতারা বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন।
গরুর দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে খামারি হানিফ বেপারী ও রাশেদ সরদার জানান, গরুর খাবার, গাড়ি ভাড়াসহ বাজারে সব জিনিসেরই দাম বেশি। কিন্তু গরুর দাম কেউ দিচ্ছে না। এতে তারা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
বাবুগঞ্জের পোস্ট অফিস এলাকার গরু ব্যবসায়ী মনিরুল জানান, তিনি কুষ্টিয়ার খামারিদের কাছ থেকে ২০টি গরু এনেছেন। এরমধ্যে ৫টি বিক্রি করেছেন। তবে ক্রেতারা বিক্রির মতো দাম বলছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এসএম রুহুল আমিন জানিয়েছেন, বরিশাল নগরীর ৭টি হাটে হাট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় নিরাপত্তার জন্য পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি হাটগুলোতে চাঁদাবাজি ও জাল টাকা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।