নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান হেফাজত আমিরের

শাহ আহমদ শফী (ফাইল ছবি)

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমেদ শফী। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে আহমেদ শফী বলেন, ‘মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা। এদের সাহায্য করুন। তাড়িয়ে দিয়ে আল্লাহর গজব ডেকে আনবেন না।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের ভাই-বোন; এরা সন্ত্রাসী নয়। এরা নিপীড়িত অসহায় মজলুম। এদের আশ্রয় দেওয়া আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলিমদের রক্ত নিয়ে যারা হোলি খেলায় মেতে উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে সোচ্চার ও কুটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।

হেফাজত আমির বলেন, ‘বর্তমানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে মর্মান্তিক। নদীতে ভাসছে মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলমান শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ নারী-পুরুষের বিকৃত লাশ। মায়ের সামনে মেয়েকে, মেয়ের সামনে মাকে, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে নির্বিচারে হত্যা করছে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী। তারা মুসলমানদের ঘর-বাড়ি, মাদ্রাসা-মসজিদ জ্বালিয়ে দিচ্ছে, শিশুসহ সব বয়সী মানুষদের দা দিয়ে কুপিয়ে মারছে। এমনকি, জীবন্ত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করছে। এরা সন্ত্রাসী, খুনি, এরা মানবতার শত্রু।’

জাতিসংঘ এবং ওআইসিকে মিয়ানমারের এই সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত নিপীড়ন বন্ধের জন্য জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মুসলমান হওয়াটাই কি রাখাইনের নির্যাতিত নাগরিকদের অপরাধ? যে নির্যাতন আজ রাখাইনে চলছে, তার শতভাগের একভাগও যদি কোনও মুসলিম দেশে অমুসলিমদের ওপর করা হতো, তাহলে বিশ্বসংস্থা ও প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের শক্তিধর দেশগুলো এভাবে নীরব ভূমিকা পালন করতো? তাই, রাখাইনে মুসলিম গণহত্যার উস্কানিদাতা অং সান সুচির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলিমরা নিজ জন্ম ভূমিতে অধিকারহারা। তারা নিজের আবাসভূমিতে নিষ্ঠুর বর্বরতম নির্যাতনের স্বীকার। মানবতাবাদী কোনও রাষ্ট্র সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে না। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো আজ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। উগ্র-জাতীয়তাবাদ আর ক্ষমতালিপ্সা মানুষের পাশবিকতাকে কতটা উস্কে দিতে পারে, তারই বাস্তবচিত্র রাখাইনের অসহায় মানুষের আর্তচিৎকার।’