পায়ের নিচে ফেলে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর তার শিক্ষক আমজাদ হোসেনের (৪২) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) জয়দেবপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন নির্যাতিত তাওহীদুল ইসলাম ওরফে শোয়েব মোল্লার মা মঞ্জুরা বেগম। জয়দেবপুর থানার পূবাইল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বন্ধু বাছির উদ্দিনকেও (৪১) আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২-৩ জনকে নাম উল্লেখ না করে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার বিকালে মা মঞ্জুরা বেগম শোয়েব মোল্লাকে পূবাইল রহমানিয়া এতিমখানার হোস্টেলে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু শোয়েব মাদ্রাসায় থাকতে রাজি হচ্ছিল না। সে বাড়ি ফেরার জন্য মা’র পিছু নেয়। বিষয়টি শিক্ষক আমজাদ হোসেন দেখে শোয়েবকে শাসনের নামে টেনে হিঁচড়ে পায়ের নিচে ফেলে নির্যাতন শুরু করেন। এ কাজে তার বন্ধু বাছির উদ্দিন সহযোগিতা করেন। ওই সময় একাধিকবার পালানোর চেষ্টা করেও শোয়েব রেহাই পাননি। এলাকার এক যুবক ঘটনাটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ তদন্তে ঘটনাস্থলে যায় । পরে ভিক্টিমের মা থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার দুইদিন পর থেকে মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাদ্রাসার মূল ফটক ও হোস্টেলে তালা ঝুলছে।
মঞ্জুরা বেগম জানান, চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে শোয়েব সবার ছোট। শোয়েব আগে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। তবে তার (মঞ্জুরা) ও তার স্বামীর ইচ্ছা ছেলেকে কোরআনে হাফেজ বানাবেন। তাই দুই মাস আগে শোয়েবকে স্কুল থেকে দুই হাজার টাকা মাসিক খরচে ওই এতিমখানায় ভর্তি করিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার রাতে শোয়েবকে এতিমখানা থেকে একদিনের ছুটিতে বাড়ি নিয়ে যান তিনি। ছুটি শেষে পরদিন শুক্রবার বিকালে শোয়েবকে এতিমখানার হোস্টেলে রেখে আসতে গেলে সে মঞ্জুরা বেগমের পিছু নেয়।
শিশু শোয়েব বলে, ‘আমজাদ হুজুর আমাকে পা দিয়ে চেপে ধরে চড়-থাপ্পর মেরেছেন।’
অভিযুক্ত শিক্ষক আমজাদ হোসেন ও বাছির উদ্দিন পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রাসেল মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘হুজুর ঝাঁড়-ফুঁকের নামে সরল বিশ্বাসী মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন। তিনি জিন-পরির আছর ছাড়াতে পাবেন বলে দাবি করেন। এছাড়া বিভিন্ন রোগের পানি পড়া দিয়ে থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি জয়দেবপুর থানাধীন মারুকা এলাকায়। তার নানা মৃত আব্দুল হাকিম মারা যাওয়ার আগে ওই মাদ্রাসায় তাকে চাকুরি দিয়ে যান।’