মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে এক রোহিঙ্গা দম্পতিকে গুলির পর গলাকেটে হত্যা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাখাইনের ঢেঁকিবনিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ওয়াংচিপং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের এপার ও ওপারের একাধিক সূত্র এ খবর জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার রোহিঙ্গা দম্পতি হলেন- ঢেঁকিবনিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ওয়াংচিপং গ্রামের জাফর উল্লাহ (৩০) ও স্ত্রী আয়েশা খাতুন (২৬)। গত কিছু দিন ধরে এ দম্পতি নো-ম্যানস ল্যান্ডে ছিলেন।
তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গা আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আজ (শনিবার) বিকালে ঢেঁকিবনিয়ার ৪নং ওয়ার্ডের নিজ গ্রাম ওয়াংচিপংয়ের বাড়িতে ফেলে আসা চাল আনতে গিয়ে জাফর ও আয়েশা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।’
ফরিদুল আলম নামে নো-ম্যানস ল্যান্ডে থাকা অন্য এক রোহিঙ্গাও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘জাফর ও আয়েশা একটি ছোট শিশু নিয়ে দীর্ঘ তিন দিন ধরে নো-ম্যানস ল্যান্ডে ছিলেন। সঙ্গে থাকা খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় আজ ওয়াংচিপংয়ের বাড়িতে গিয়ে তারা হত্যার শিকার হন। নো-ম্যানস ল্যান্ডে তাদের লাশ নিয়ে এসেছি। তাদের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে, গলায়ও কাটার দাগ আছে।’
রাখাইনের ঢেঁকিবনিয়ায় বসবাসরত আজিজ উল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা মুঠোফোনে বলেন, ‘রাখাইনের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের ১শ’ গজের মধ্যে জাফর ও আয়েশার বাড়ি। আজ এ বাড়িতে আসলে প্রথমে গুলি ও পরে গলাকেটে তাদের হত্যা করে সেনাবাহিনী। একই কথা জানান সীমান্তের এপারে বসবাসরত একাধিক সূত্র।
গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় সে দেশের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ। এতে ১২ পুলিশ সদস্যসহ অনেক রোহিঙ্গা হতাহত হন। এ ঘটনার পর থেকে প্রতিদিনই রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। বর্তমানে নাফ নদীর জলসীমানা থেকে শুরু করে স্থল সীমানা পার হয়ে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা।