খুলনার চামড়া সরাসরি ট্যানারিতে যাচ্ছে, বেকায়দায় ব্যবসায়ীরা

খলিনায় ব্যবসায়ীরা চামড়া পাচ্ছেন না, আগেই চলে গেছে ট্যানারিতেস্থানীয় ব্যবসায়ীদের এড়িয়ে খুলনা অঞ্চলের চামড়া সরাসরি চলে যাচ্ছে ফুলতলার সুপার এক্স ট্যানারিতে। ফলে এ অঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বেকায়দায়।
প্রতিবছর এ অঞ্চলের কোরবানির পশুর চামড়া স্থানীয় মাদ্রাসাগুলো সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীদের বিক্রি করতো। কিন্তু এবার চামড়া ব্যবসায়ীদের এড়িয়ে ট্যানরির সঙ্গে চুক্তি করে সরাসরি সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।  বেশ কিছু মাদ্রাসাকে অগ্রিম টাকা দিয়ে সরাসরি চামড়া নিচ্ছে ফুলতলার সুপার এক্স ট্যানারি।  

খুলনার শেখপাড়া চামড়া পট্টির আইয়ুব লেদারের মো. নাসিম হোসেন জানান, গত বছর তিন হাজারের ওপরে চামড়া পেয়েছিলাম। এ বছর রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত চামড়া পাওয়া গেছে এক হাজার ২০০ পিস। এ অঞ্চলে এত কম চামড়া পাওয়ার কথা না। চামড়া পাচারও হচ্ছে না। এত কম পাওয়ার কারণ হচ্ছে— মাদ্রাসা থেকে চমড়া সরাসরি চলে যাচ্ছে ফুলতলার নতুন ট্যানারিতে।’

এামুন লেদার কমপ্লেক্সের শহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর প্রায় তিন হাজার চামড়া পেয়েছিলাম। কিন্তু এ বছর অর্ধেক চামড়াও পাওয়া যায়নি। কোনও মাদ্রাওসার চামড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফুলতলার সুপার ট্যানারিতে চলে যাচ্ছে।

খুলনার তালিমুল মিল্লাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এ এফ এম নাজমসু সউদ বলেন, ‘এ বছর প্রায় সাড়ে ৪০০ পিস চামড়া পাওয়া গেছে। যা মাদ্রাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল। চুক্তি অনুয়ায়ী ফুলতলার সুপার এক্স ট্যানারি থেকে গাড়ি এসে চামড়াগুলো নিয়ে গেছে। গত বছরও এভাবেই সেখানে চামড়া সরবরাহ করা হয়েছিল। গত বছর চ্যানারি থেকে গড়ে এক হাজার ২০০ টাকা দাম দেওয়া হয়েছিল। এ বছর হিসাব নিকাশ করে আলোচনার মাধ্যমে চামড়ার দর নির্ধারণ করা হবে।’

ফুলতলার সুপার এক্স ট্যানারির এমডি ফিরোজ ভূইয়া বলেন, ‘এ বছর রবিবার ভোর পর্যন্ত ৩০ হাজার চামড়া পাওয়া গছে। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাম নড়াইল, যশোর ও মাগুরার ৮০ মাদ্রাসা থেকে এ পরিমাণ চামড়া পাওয়া গেছে। গত বছর এ সব মাদ্রাসা থেকে ১০ হাজার পিস চামড়া পাওয়া গিয়েছিল।’

ফিরোজ বলেন, ‘এ বছর কিছু কিছু মাদ্রসায় অগ্রিম অর্থ দিতে হয়েছে।  সর্বনিম্ম এক  লাখ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩০ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। সব মাদ্রাসা থেকে চামড়া আসার পর তা প্রক্রিজাত করা হচ্ছে। এ জন্য প্রাথমিক কাজ হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে লঞ্চ যোগে আনা হয়েছে ৭১ লাখ টাকার লবণ।  শনিবার দিনগত রাতে ৪০০ শ্রমিক এ সব চামড়ার প্রাথমিক কাজ করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে বাজার দর দেখে মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে বৈঠকের পর চামড়ার দর নির্ধারণ করা হবে।’