নরসিংদীতে মেঘনার ভাঙন, বিলীন দেড় শতাধিক বাড়িঘর

ভাঙছে পদ্মা, আতঙ্কে মানুষ (ছবি- প্রতিনিধি)

মেঘনার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে নরসিংদীর করিমপুর ইউনিয়নের দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি। এতে ভাসমান নৌকা ও খোলা আকাশের নীচে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজারো মানুষ। এদিকে, বিলীনের আশঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আরও দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি। শুধু তাই নয়; শিগগিরই ভাঙন ঠেকানোর স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে পুরো ইউনিয়নই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে, নদী তীরে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের করিমপুর ইউনিয়নের শুটকিকান্দি ও শ্রীনগর গ্রামে হঠাৎ করেই শুরু হয় নদী ভাঙন। এতে মঙ্গলবার পর্যন্ত (৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে দুই গ্রামের দেড় শতাধিক বাড়িঘরসহ শত শত একর ফসলি জমি। ভাঙনের আশঙ্কায় এরই মধ্যে নিজ নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে গ্রাম দু’টির আরও দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি। বাড়িঘর হারিয়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধদের নিয়ে ভাসমান নৌকা ও খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন গ্রামগুলোর হাজারো মানুষ। বাড়িঘর, গবাদি পশু ও মালামাল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

মেঘনায় হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে। এদিকে, ভাঙন শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিকভাবে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পাউবো। শিগগিরই ভাঙন ঠেকাতে না পারলে করিমপুর ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা (ছবি- প্রতিনিধি)

শুটকিকান্দি গ্রামের গোলবাহার বেগম বলেন, ‘ঈদের দিন বিকাল থেকে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। পরে সোমবার বিকালে আমার দুইটি ঘর নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বসবাস করছি।’

একই গ্রামের রুমেলা বেগম বলেন, ‘ভিটা নদীতে চলে গেল। এখন পাঁচ ছেলেমেয়ে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। সরকার যদি আবাসনের ব্যবস্থা না করে, তবে কোথায় যাব, ভেবে পাচ্ছি না।’

বৃদ্ধা ইয়াছমিন বেগম বলেন, ‘সকালেও আমার ঘর ছিল, বিকালে নদী সব কাইড়া নিল। এরপর থেকে খেয়ে না খেয়ে খোলা আকাশের নীচে আছি।’

এ ব্যাপারে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

বালুর বস্তা ফেলে পাউবোর ভাঙন রোধের চেষ্টা (ছবি- প্রতিনিধি)

পানি উন্নয়ন বোর্ড নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘এই এলাকা আগে থেকেই ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। সেদিকটা মাথায় রেখে আগেই আমরা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। শিগগিরই ভাঙন রোধে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্ষার পর থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো বলে আশা করছি।’