সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষ, প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ

সাতক্ষীরায় বুধবার গভীর রাতে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেসাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আট জন আহত হয়েছেন। এ সংঘর্ষের জের ধরে একটি হিন্দু মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত দুইটি গ্রুপই একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ করছে। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে সংঘর্ষের পর প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরা আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের হাতে আটক দু’জন হলেন— সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য দেলোয়ার হোসেনের চাচাতো ভাই শাহরিয়ার ও চঞ্চল। দেলোয়ার হোসেনের ভাগ্নে শুভ ও শাওন আহত হন সংঘর্ষে। আহত অন্যরা হলেন— উজ্জল ঘোষ, পলাশ ঘোষ, বাবু লাল ঘোষ, কালিপদ ঘোষ, সুমন ঘোষ ও সুকুমার ঘোষ। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় দেলওয়ার হোসেনের ভাগ্নে শুভ ও শাওন আহত হয়েছেন।
আশাশুনি উপজেলার কচুয়া গ্রামের শংকর ঘোষ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুল্ল্যা ইউনিয়নের কচুয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে উজ্জল ঘোষসহ তার সমর্থকদের সঙ্গে জেলা পরিষেদের ১৩নং ওয়ার্ড সদস্য দেলোয়ার হোসেনের ভাগ্নে শুভ ও শাওনের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বুধবার গভীর রাতে দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এসময় নারী-পুরুষসহ কমপক্ষে ১০ জনকে পিটিয়ে জখম করে তারা। একইসঙ্গে হামলাকারীরা কচুয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের বিষ্ণু, ব্রহ্মা দুর্গা ও কার্তিকের মূর্তি ভাঙচুর করে।’
সংঘর্ষে আহত কযেকজনস্থানীয় ইউপি সদস্য আঙ্গুর হোসেন বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুর করা অবস্থায় দেখতে পেয়েছি। রাতে সংঘর্ষে কয়েকজন আহতও হয়েছেন। স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রতিমা ভাঙচুরের কারা জড়িত সেটা জানা নেই।’
প্রত্যক্ষদর্শী সোহরাব হোসেন জানান, বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা দেখতে পান তিনি। এসময় এক পক্ষে ছিল দেলোয়ার হোসেনের ভাগ্নে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শুভ ও তার ভাই শাওন; অন্য পক্ষে ছিল স্থানীয় ছাত্রলীগের সভাপতি উজ্জল ঘোষ ও তাদের সহযোগী পলাশ ঘোষ, বাবু লাল ঘোষ, কালিপদ ঘোষ, সুমন ঘোষ। শুভ-শাওন ও তাদের সমর্থকদের মারধরে প্রতিপক্ষের কয়েকজন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে। পরে উজ্জল ঘোষের নেতৃত্বে শুভ-শাওনকে মারধর করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য দেলোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি স্থানীয় গুনাকরকাটি বাজারে চুল কাটাচ্ছিলাম। শুভ-শাওন আমাকে নিতে এসেছিল। ফেরার পথে কচুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন কুল্যা-দরগাহপুর সড়কের কচুয়া ঘোষ পাড়া পৌঁছালে কয়েকজন আমাদের পথ রোধ করে। এসময় শুভ-শাওনের সঙ্গে তাদের কথাকাটি ও হাতাহাতি হয়। তবে আমরা কাউকে হামলা করিনি।’ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই তরুণরা প্রতিমা ভেঙে তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন দেলোয়ার হোসেন।
আশাশুনি থানার ওসি শাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানতে পারিনি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দেলোয়ার হোসেনের চাচাতো ভাই শাহরিয়ার ও চঞ্চলকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন-
চুয়াডাঙ্গায় অপহৃত দুই স্কুলছাত্রীকে ঢাকা ও কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার

হাতিয়ায় আ.লীগের পাল্টাপাল্টি হামলা: ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা