তরুণীকে উত্ত্যক্তের জেরে কুমিল্লায় দুই গ্রামে পাঁচদিন ধরে উত্তেজনা

হামলার হুমকি দিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসকুমিল্লার লাকসামে এক তরুণীকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় পাঁচ দিন ধরে দুটি গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কোরবানির ঈদের পরদিন থেকে এ বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, কিছুদিন আগে মনপাল গ্রামের এক তরুণীকে পাশের রাজাপুর গ্রামের কয়েকজন যুবক উত্ত্যক্ত করে। এতে মনপালের কয়েকজন যুবক বাধা দিতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। রাজাপুর গ্রামের তরুণরা প্রতিবাদকারীদের ওপর ফের হামলা চালাতে আসলে মনপাল গ্রামবাসী তাদের কয়েকজনকে আটক করে। পরে লাকসাম থানার পুলিশ তাদের ছাড়িয়ে নেয়।

আজ শুক্রবার উত্তরদা ইউনিয়ন পরিষদে দুই গ্রামের মধ্যে সালিশ হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র থেকে আরও জানা যায়, দুই গ্রামের এই অস্থিরতার কারণে মনপালের গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বাধার ‍সৃষ্টি করছে রাজাপুরের যুবকরা। এছাড়াও মনপাল গ্রামে হামলার হুমকি দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দেওয়া হচ্ছে। মনপাল গ্রামের আলী আকবর বলেন, ‘রাজাপুর গ্রামের কয়েকজন যুবক আমাদের গ্রামের এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের ওপরে চড়াও হয়। এছাড়াও মনপালে তারা হামলা করার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। এমনকি গ্রামের শিক্ষার্থীরা তাদের গ্রামের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিচ্ছে। পুরুষরা হাটে বাজারে যেতে ভয় পাচ্ছে। পুরুষরা এখন রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।’

অন্যদিকে, রাজাপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি রমজান আলী বলেন, ‘রাজাপুরের দু’জন ছেলে মনপাল গ্রামে মামার বাড়িতে গিয়ে একটি মেয়ের সঙ্গে রসিকতা করতে গেলে ওই গ্রামের কয়েকজন যুবক তাদের মারধর করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের যুবকদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। মনপালের লোকজনকে হয়রানির বিষয়টি সঠিক নয়।’

গণউদ্যোগ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ রঞ্জিত চন্দ্র দাশ বলেন, ‘মানপাল ও রাজাপুর গ্রামের মধ্যে একটি সমস্যা চলে আসছে বলে শুনেছি। এমনকি মনপাল গ্রামের দু’জন অভিভাবক আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। আমি এ ব্যাপারে মনপাল ও রাজাপুর গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তিকে জানিয়েছি যাতে আমার শিক্ষার্থীদের কোনও সমস্যা না হয়।’ লাকসাম থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, ‘মনপাল ও রাজাপুর গ্রামের মধ্যে যে অস্থিরতা চলে আসছে তা সমাধানের জন্য দুই গ্রামের ৫ জন করে দশ জনকে ডেকে এনে অঙ্গীকারনামা নিয়েছি। আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

লাকসাম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে ওসি সাহেবের সঙ্গ কথা বলবো। আশা করছি সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।’