শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে এক শিক্ষক বরখাস্ত, অন্যজনকে শোকজ

rajshahiরাজশাহীতে পৃথক ঘটনায় ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরা হলেন— রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক অজিত কুমার সরকার ও বাঘা উপজেলার খায়েরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল আওয়াল। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দু’টির প্রধানরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ তাইফুর রহমান জানান, আদিবাসী এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অপরাধে কলেজের গভর্নিং বডির ৩৪তম সভায় অজিত কুমার সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের চিঠি বৃহস্পতিবার(৭ সেপ্টেম্বর) ডাকযোগে নওগাঁর রাণীনগরে তার গ্রামের স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। অজিত কুমার সরকার কলেজের কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অধ্যক্ষ তাইফুর রহমান আরও বলেন, ‘অবিবাহিত শিক্ষক অজিত কুমার সরকার রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। সম্প্রতি ওই বাসায় কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক আদিবাসী ছাত্রীকে সহযোগিতার নামে ডেকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ অভিযোগে ওই ছাত্রীর স্বামী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে চেয়ারম্যান বিষয়টি তদন্তের জন্য শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আনারুল হক প্রামানিককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।’
এই কমিটি সম্প্রতি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। শিক্ষক অজিতের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিটি সুপারিশ করে। এরপরই কলেজের গভর্নিং বডির সভায় ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অধ্যক্ষ তাইফুর রহমান জানান, গত ৩১ আগস্ট বোর্ড চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গভর্নিং বডির জরুরি সভায় অভিযুক্ত অজিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঈদের ছুটির কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দাফতরিক কার্যক্রম আর এগোয়নি। পরে বৃহস্পতিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) ডাকযোগে অজিত কুমার সরকারের কাছে সাময়িক বরখাস্তের আদেশের চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্থায়ীভাবে কেন বরখাস্ত করা হবে না, অজিতের কাছে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।

এ ব্যাপারে অজিত কুমার সরকার দাবি বলেন, ‘ওই ছাত্রী তার কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য বাসায় কথা বলতে গিয়েছিল। পরের দিন থেকে চলমান ব্যাচের সঙ্গে তারও যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে তা না করে রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলে। ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়নি।’

এদিকে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খায়েরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুঞ্জুর রহমান জানান, স্কুলের ধর্মবিষয়ক শিক্ষক আব্দুল আওয়ালের বিরুদ্ধে ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘ঈদের আগে গত ২৯ আগস্ট স্কুল ছুটি হওয়ার পর শ্রেণিকক্ষে ডেকে ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন ধর্মবিষয়ক শিক্ষক আব্দুল আওয়াল। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী ঈদের ছুটির পর বিচার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করে। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক আব্দুল আওয়ালের কাছে জবাব চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। নোটিশটি ডাকযোগে তার বাড়ির ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। জবাব পেলেই ওই শিক্ষকের বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে ধর্মবিষয়ক শিক্ষক আব্দুল আওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।  তবে বিচার না পেলে আগামী সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্কুল ঘেরাও করা হতে পারে বলেও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।