দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। আটক নেতাকর্মীর স্বজনদের দাবি— যুবদলের এক নেতার মৃত্যুবার্ষিকীর প্রস্তুতি সভা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটকের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠিয়ে সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়। আটক বিএনপি নেতাকর্মীরা হলেন—দুপচাঁচিয়া থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, পৌরসভা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, যুবদল নেতা ওমর ফারুক, আবদুল মজিদ, সোহেল রানা, মিজানুর রহমান, বিএনপিকর্মী কামরুল হাসান মিলন ও বিএনপিকর্মী বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির কম্পিউটার অপারেটর মোসাব্বির হাসান সম্রাট।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ইসলামপুর সড়কের রঘুসারদীঘি এলাকায় বিএনপি সভাপতি আবদুল হামিদের বড় ভাই মোবারক আলীর ‘মুহিত অটো রাইস মিলে’ বিএনপি ও জামায়াতের ১৮ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী নাশকতার পরিকল্পনা করতে সমাবেত হয়েছিলেন। গোপন খবর পেয়ে সেখান থেকে থানা বিএনপির সভাপতি হামিদসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ অন্যরা পালিয়ে যান। তাদের কাছে তিনটি পেট্রলবোমা ও ১০টি জিহাদি বই পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে এসআই আবদুর রাজ্জাক তাদের বিরুদ্ধে থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করেছেন।
ওসি আরও জানান, শনিবার দুপুরে গ্রেফতার ৯ জনকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিএনপি ও যুবদলের ৯ নেতাকর্মী গ্রেফতারের পর থেকে দুপচাঁচিয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের মোবাইল ফোন বন্ধ।
গ্রেফতার থানা বিএনপি সভাপতি আবদুল হামিদের বড় ভাই আলহাজ মোবারক আলী জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহীনুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী। দিবসটি পালনে তার মিলে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। পুলিশ তাদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার ও পেট্রলবোমা এবং জিহাদি বই জব্দ দেখাচ্ছে। এভাবে মামলা হলে তিনি অবশ্যই এর প্রতিবাদ জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।
গ্রেফতার নয় জনের মধ্যে সম্রাট ও মিলন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও দাবি করেন মোবারক আলী।