তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞ মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রতারণার কৌশল হিসেবে কলগার্ল নামের ফেসবুকে ভুয়া আইডি করে। এরপর প্রবাসীদের সঙ্গে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমেই পরস্পরের মোবাইল ফোন নম্বরও লেন-দেন হয়। এরপর মোবাইলের ম্যাজিক ভয়েস অ্যাপস ব্যবহার করে মেয়েলি কন্ঠে প্রেমের অভিনয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। প্রায় দুই বছর ধরে লালপুর উপজেলার এই প্রতারক চক্র প্রবাসীদের টাকা হাতিয়ে নেয়।
পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, প্রতারকরা প্রথমে কলগার্ল নাম দিয়ে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলতো। এ্যাটাচ করত আংশিক নগ্ন সুন্দরী মহিলার ছবি। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ মোবাইল নম্বর নিয়ে আইটেল-৫৬০০ মডেলের মোবাইল ফোনের ম্যাজিক ভয়েস অ্যাপস ব্যবহার করে তারা মেয়েলি কণ্ঠে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করতো। এক পর্যায়ে তারা প্রবাসীদের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো।
বিপ্লব বিজয় তালুকদার দাবি করেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা ও লালপুর থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে লালপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় প্রতারক চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়। এসময় তাদের ব্যবহার করা ৯টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। এ ব্যাপারে লালপুর থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত, খায়রুল আলম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আব্দুল হাই এবং লালপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেফতার তরুণরা হচ্ছেন— হল লালপুর উপজেলার নাগশোষা গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে আশিক(২৪), একই গ্রামের মর্জেম হোসেনের ছেলে আসাদুল ইসলাম(২৫), মফিজ উদ্দিনের ছেলে নাজমূল হক(১৮), বাবর আলীর ছেলে সাগর আহম্মেদ(১৮), জালাল উদ্দিন সরদারের ছেলে শিমুল হোসেন(২৬), আব্দুল হান্নান মোল্লার ছেলে জুয়েল রানা(২৪) এবং সামসুল হকের ছেলে শাহাদৌলা ইসলাম ওরফে শাহদুল্লাহ(২৪), মহরকয়া ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে লালন উদ্দিন(২২) একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে মুহাইমিনুল ওরফে আবির(২৪) এবং মহরকয়া থান্দারপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ থান্দারের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে জুয়েল(২৫) এবং মহরকয়া পূর্বপাড়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান ওরফে লিখন(২২)।