ষোড়শ সংশোধনীর রায়: ‘নিজেরাই নিজেদের বিচার করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে’

আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় আইনমন্ত্রীনিজেরাই নিজেদের বিচার করে আমাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে বিচারপতিদের উদ্দেশে শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৭ থেকে ২০১৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারপতিকে অপসারণ করা করা হয়েছে। কাউকেই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে নেওয়া হয়নি। একজনকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু গর্হিত অন্যায় থাকার পরেও তাকে খালাস করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাই। এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। এখন বিচারপতিরা নিজেরাই নিজেদের বিচার করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। তবে রায় নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। রায়কে আমি শ্রদ্ধা করি। সরকার আইনিভাবেই এ রায়ের মোকাবেলা করবে। আইনের পথে হাঁটবে সরকার।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রায় লিখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি শুরু করলেন— এ দেশ নাকি একজনের নেতৃত্বে স্বাধীন হয়নি। এখানেই আমাদের আপত্তি। এ লেখার মধ্যদিয়ে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কোনোভাবেই ইতিহাস বিকৃত করা মেনে নেওয়া হবে না। ইতিহাস বলে ১৯৪৮ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে আন্দোলন করেছেন, এর ফলশ্রুতি হচ্ছে— বাংলাদেশ। আগামী নির্বাচনে আপনারা শেখ হাসিনার সরকারকে নির্বাচিত করে এ ষড়যন্ত্রের জবাব দেবেন।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখনও অনেক ষড়যন্ত্রকারী আছেন। বঙ্গবন্ধুর কেবিনেটে মন্ত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে যখন মারা হয় তখন তিনি লন্ডনে থাকেন। আবার যখন আসেন তখন আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্টপ্রার্থী হওয়ার জন্য আসেন। আবার আওয়ামী লীগ যখন বিপদে পড়ে, তখন তিনি প্লেনে করে চলে যান।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. স্বপন মিয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুল হক ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদুল কায়ছার ভূঁইয়া জীবন, এম জি হাক্কানি, কাজী আজহারুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন জুয়েল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের সদস্য আইয়ূব আলী প্রমুখ।

মন্ত্রী বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৮৫ জন বিজয়ী ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং বিদ্যালয়ে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন।