হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন নবাব শরীফ। এই রোহিঙ্গা যুবক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাসপাতালে আমরা ভালো চিকিৎসা পাচ্ছি। এমএসএফ হাসপাতাল থেকেও আমাদেরকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। চমেক হাসপাতালে যেসব ওষুধ নেই, সেগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থা মেডিসিন স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করছে। হাসপাতাল থেকে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ফাতেমা ফার্মেসিতে দিলিই তারা আমাদের ওষুধ সরবরাহ করেন।’
একই কথা জানালেন হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোহিঙ্গা যুবক জাফর আলমের ভাই রহমতুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে অনেক ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি ওষুধগুলো এমএসএফ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে। তারা রোগীর সঙ্গে থাকা অ্যাটেনডেনকে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে দিচ্ছে।’
হাসপাতালে কর্মরত একাধিক নার্সের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংস্থার লোকজন এসে নিয়মিত সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ ফল ও খাবার নিয়ে আসছেন। আবার কেউবা রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য কাপড়-চোপড় দিচ্ছেন। অনেকে নগদ অর্থও প্রদান করছেন।
হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্বে পালন করেন মো. সুমন। শুক্রবার রাতে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিদিন রোহিঙ্গা রোগীদের দেখতে হাসপাতালে অসংখ্য লোকজন আসছেন। আমাদের দেশের রোগীদের থেকেও রোহিঙ্গা রোগীরা অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।’
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা রোগীদের অন্য দেশের মানুষ হিসেবে দেখছি না। আমরা তাদের একজন মানুষ ও রোগী হিসেবে গণ্য করছি। পেশাদারিত্ব দিয়ে আমরা তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেশিরভাগ ওষুধপত্র হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। আর যেসব ওষুধ হাসপাতালে নেই, সেগুলো আমরা রোগী কল্যাণ সমিতি থেকে ক্রয় করে তাদের সরবরাহ করছি।’
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার অফিসের (কক্সবাজার) কর্মী মইনুল হোসেন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ শরণার্থী কার্ড পাওয়া রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা দিয়ে থাকি। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা রোহিঙ্গাদের মেডিসিন সরবরাহ ও পরীক্ষা-নিরিক্ষা খরচ আমরা বহন করি। আমাদেরকে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র দিলে আমরা ফার্মেসী থেকে ওইসব ওষুধ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করে দিই।’
প্রতিমাসে কী পরিমাণ রোহিঙ্গা রোগীকে সেবা প্রদান করে থাকেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত নয় বছরে আমি এখানে কাজ করছি। প্রতিমাসে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সম্প্রতি রাখাইনে সহিংসতার ঘটনার পর চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা বেড়ে গেছে।’
আন্তর্জাতিক সংস্থা মেডিসিন স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) এর মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোহিঙ্গাদের ওষুধ সরবরাহ করে ফাতেমা ফার্মেসি। ওই ফার্মেসির ফার্মাসিস্ট মো. নূর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যারা এমএসএফ-এর মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি হন, আমরা তাদের ওষুধ সরবরাহ করি। এখানে এমএসএফ-এর একজন প্রতিনিধি আছেন। তিনি অনুমোদন দিয়ে আমাদের কাছে প্রেসক্রিপশন পাঠালে আমরা যাবতীয় ওষুধ সরবরাহ করি।’
তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে আমরা এমএসএফ-এর সঙ্গে কাজ করছি। প্রতিমাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন রোহিঙ্গা রোগীকে ওষুধ সরবরাহ করে আসছি। তবে সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার ঘটনায় এখন হাসপাতালে রোহিঙ্গা রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তবে একারণে রোহিঙ্গা রোগীদের কাউকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। সব রোগীকেই ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের অস্ত্রবিরতি