ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আহ্বান জানিয়ে অভয়নগর উপজেলায় একদিনে একযোগে রোপণ করা হয় এই তালের বীজ। একইসঙ্গে, রোপণের জন্য বিতরণ করা হয়েছে আরও এক লাখ তালবীজ। এ প্রকল্প জলবায়ু পরিবর্তনে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা আয়োজকদের।
এমন আয়োজন সম্পর্কে মনদীপ ঘরাই বলেন, ‘এ বছর দেশে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বিষয়টি লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে তালের চারা রোপণের নির্দেশনা দেন। এরপর আমি আড়াই লাখ তালের চারা রোপণের পরিকল্পনা নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেই।’ তিনি জানান, এ স্ট্যাটাস দেখেই তালবীজ সংগ্রহে এগিয়ে আসেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ ওই স্ট্যাটাসেই মন্তব্য করেন স্কুলগুলোকে সম্পৃক্ত করতে। এরপর স্কুলগুলোতেও প্রচার শুরু করেন মনদীপ ঘরাই।
তিনি বলেন, ‘৭ দিনে শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরাই সংগ্রহ করেছে এক লাখ ৩ হাজার তালবীজ। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংগ্রহ ৬৭ হাজারের বেশি। ছিল এলাকার কলেজও।’ শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও শ্রমজীবী সংগঠন এমনকি ব্যক্তি উদ্যোগেও সংগ্রহ হয়েছে তালের চারা। এতে আড়াই লাখের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ করা চার লাখ তালের চারার মধ্যে তিন লাখ রোপণ ও এক লাখ রোপণের জন্য বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলার ৮ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল, রাস্তার ধারে, পতিত জমি ও জমির আইলে তালবীজ রোপণ করা হয়। মনদীপ ঘরাই বলেন, ‘শুধু বজ্রপাতই নয়, ভাঙন প্রতিরোধ ছাড়াও ফল হিসেবে, পাখা, নৌকা, ঘর নির্মাণসহ নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে তালগাছের।’