ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কার্যক্রম

 

বাগেরহাট ডিসি অফিস

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কার্যক্রম চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ২টি ব্লক অপসারণ করে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন হলেও স্থাপত্য অধিদফতর নকশা প্রণয়ন না করায় নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে না।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, এরশাদ সরকারের শেষের দিকে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের পাশে খারদ্বার এলাকায় ৬.৫ একর জমির উপর বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হয়। গত কয়েক কছর ধরে এই ভবনের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ভবনের ৩টি ব্লকের মধ্যে ২টি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিষয়টি একাধিক বার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। গত ২০১৬ সালে ২৪ অক্টোবর জেলা সদরে কোর ভবনাদি নির্মাণ সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির ১৮১তম সভায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নতুন অফিস ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বাগেরহাট ডিসি অফিস

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবনের স্থাপত্য নকশা প্রণয়নের জন্য রাজধানীর সেগুন বাগিচার স্থাপত্য অধিদফতরের কাছে চিঠি প্রেরণ করা হয়। তিন দফায় এই চিঠি পাঠলেও সংশ্লিষ্ট অধিদফতর থেকে কোন নকশা প্রণয়ন করা হয়নি। সর্বশেষ গত ২৮ আগষ্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কোষ-১ এর উপ-সচিব নাদিরা হায়দার এই চিঠি প্রেরণ করেন।

সামান্য বৃষ্টি হলেই ওই ভবনগুলোর ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসসহ গুরুত্বপূণ সরঞ্জামাদি। ভবনের ছাদ ও পিলারে রয়েছে বড় বড় ফাঁটল। কয়েকটি কক্ষ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অযোগ্য হওয়ায় মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু আসবাবপত্র জায়গা না থাকায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

ছাঁদ খসে পড়া ও পানি পড়ার কারণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় ও আদালত এবং রাজস্ব শাখা, জুডিশিয়াল মুন্সি খানাসহ অধিকাংশ দফতরের কর্মকর্তা কর্মচারী অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না। একটি কক্ষের ভিতর একাধিক দফতরের কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে চাপাচাপি করে। অনেক কর্মকর্তা কক্ষে পলিথিন মুড়ি দিয়ে দাফতরিক কাজ করছেন। ফলে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

কিছুদিন পূর্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যান শাখার অফিস সহায়ক নাজমুন নাহারের শরিরের উপর ছাদের ভাঙ্গা অংশ পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শৈল্য চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে সেখানে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান। ছাদ খসে পড়ে একবার আহত হওয়া প্রবাসী কল্যান শাখার অফিস সহায়ক নাজমুন নাহার বলেন, ছাদের অংশ খসে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পরও বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই রুমেই কাজ করতে হচ্ছে।

বাগেরহাট ডিসি অফিস

বৃষ্টির কারণে পলিথিনের নিচে বসে কাজ করছেন ভিপি শাখার অফিস সহায়ক মো. শরিফুজ্জামান। তিনি বলেন, একদিকে বৃষ্টির পানি টপটপ করে পড়ছে। অপরদিকে পলিথিন মুড়ি দিয়ে বসে কাজ করতে হচ্ছে।

নেজারত শাখার উচ্চমান সহকারী সরদার ফখরুল আলম জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুটি দ্বিতল ভবন একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। সেখানের মালপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখনও ছাদ চুয়ে পানি পড়ে বিভিন্ন দফতরের মূল্যবান নথিপত্রসহ আসবাব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে পলিথিন মুড়ি দিয়ে কাজ করছেন। এতে একদিকে যেমন দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে, একই সঙ্গে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনসাধারণ।

গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. হায়দার আলী জানান, বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এবিষয়ে একটি প্রকল্প তৈরী করে পাঠানো হয়েছে।

এবিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ঝঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে এই মর্মে একাধিক বার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।