বগুড়ায় বন্যার পরও আমন ফলনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা

বগুড়ার ধুনটের চিতুলিয়া গ্রামের একটি আগাম জাতের আমন ক্ষেতবগুড়ায় বন্যায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমন ধানের টার্গেট পূরণের আশা করছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, সার ও সেচের কোনও সংকট হবে না। রোগবালাই থেকে ফসল বাঁচাতে ব্যাপক তৎপরতা চালানো হয়েছে। আগামী নভেম্বরে কৃষকদের গোলায় আমন ধান উঠবে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফা বন্যায় কয়েকটি উপজেলায় ৩৬ হাজার ৩৭৯ হেক্টর জমিতে থাকা রোপা-আমন, আউশ, শাক-সবজি, আমন বীজতলা ও কলাক্ষেতে পানি প্রবেশ করে। এতে কৃষকদের অন্তত ৪৫৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এর মধ্যে শুধু আমনের ক্ষতি হয়েছে ৩৪ হাজার ২১২ হেক্টর জমির। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে মন্ত্রণালয়ে ১০ কোটি ৮১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, গত ১৫ জুলাই থেকে রোপা আমন রোপন শুরু হয় এবং সেপ্টেম্বর মাঝামাঝি শেষ হয়েছে। ফলন পাওয়া যাবে আগামী নভেম্বরে। এ বছর জেলার ১২ উপজেলায় এক লাখ ৭৮ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছিল। জমিতে বন্যার পানি থাকায় চাষ হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে। গত বছর চাষ হয়েছিল এক লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। ফলন হয়েছিল প্রতি হেক্টরে সোয়া তিন মেট্রিক টন চাল। এবার প্রতি হেক্টর জমিতে ৩ টন হিসাবে ফলনের টার্গেট ধরা হয়েছে। ফলে মোট চাল উৎপাদন হবে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬৫৬ মেট্রিক টন।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকারের উদ্ধৃতি দিয়ে সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, বন্যার কারণে এবার কম জমিতে চাষাবাদ হলেও ফলনের টার্গেট পূরণে মাঠকর্মীরা ব্যাপক তৎপর রয়েছেন। এ বছর ধানক্ষেতে রোগবালাই নেই বললেই চলে। এছাড়া সার ও সেচের সমস্যা নেই। তবে বন্যার কারণে শেষ দিকে চারার মূল্য বেশি ছিল। আমন ফলনের টার্গেট পূরণে কৃষমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী প্রায়ই ফোন করে খোঁজ নিচ্ছেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের আহসান হাবিব জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে ধানগাছ পঁচে গেছে।

ধুনটের চাপড়া গ্রামের আব্বাস আলী ও শেরপুরের শালফা গ্রামের ইউনুস আলী মণ্ডল জানান, তার ৫ বিঘা জমির রোপা আমন সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে যাওয়ায় পঁচে গেছে। এবার তিনি চড়া দামে চারা কিনে রোপন করেছেন।

গাবতলীর পীরগাছা গ্রামের কৃষক পুটু মিয়া জানান, এবার ৫ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছিলেন। বন্যায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। হাঁটে রোপা আমনের চারা না পেয়ে বাধ্য হয়ে শাইল্যার (পোলাও চাল) ধানের চারা কিনেছেন। গত বছর এক পোণ চারা (৮০টির গোছা) ৪০০ টাকায় কিনেছিলেন। এবার কিনেছেন ৮০০ টাকায়।

শিবগঞ্জের রায়নগরের কৃষক ওবায়দুর রহমান জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষের জন্য রঞ্জিত জাতের চারা কিনেছেন। প্রতি পোণের দাম নেওয়া হয়েছে ৭০০ টাকা।

শেরপুরের নয়মাইল হাটে চারা বিক্রেতা ইউসুফ আলী প্রামানিক জানান, তিনি গত বছর রঞ্জিত আগাম জাতের চারা প্রতি পোণ বিক্রি করেন ৩০০ টাকায়। এবার বিক্রি করেছেন ৭০০ টাকা দরে।

অন্যদিকে কৃষকদের মাঝে আগাম জাতের রোপা আমন বিনা-৭ ও ব্রি-৪৯ ধান চাষ খুশির খবর বয়ে নিয়ে এসেছে। মাঠে মাঠে এখন আগাম জাতের বিনা-৭ ও ব্রি-৪৯ ধান গাছের শীষ বেরিয়েছে। বন্যায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আগাম জাতের এ দুটি ধানে আশার আলো দেখছেন।

ধুনট উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের কৃষক বাদশা মিয়া জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে বিনা-৭ জাতের আগাম ধান রোপন করেছেন। গত বছর এক বিঘা জমিতে তার ২০ মণ ধান হয়েছিল।

সারিয়াকান্দির গজারিয়া গ্রামের কুদ্দুস মিয়া জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে ব্রি-৪৯ ধান চাষ করেছেন। ধানের শীষ বের হওয়া শেষ হয়েছে। ১৫ দিনের পরেই ধান কাটতে পারবেন। তিনি আরও জানান, বন্যায় তার তিন বিঘা জমির রোপা আমন নষ্ট হয়েছে। উঁচু জমিতে এ ধান চাষ করায় বন্যায় ডুবে যায়নি।

আরও পড়ুন:
মানুষকে অসামাজিক করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কিংবা সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিরাপত্তা পরিষদের রোহিঙ্গা বৈঠক সমাপ্ত
মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান বাংলাদেশের