উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দসহ সোলার প্যানেল স্থাপন প্রকল্পের সাধারণ কর্মসূচিতে এক কোটি ১৭ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয় ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বসতবাড়ি,শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান,মসজিদ ও মন্দিরে ২৬০টি সোলার প্যানেল স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এ প্রকল্পের কোনও কাজই হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক অর্থবছরে কাজ শেষ না হলে প্রকল্পের টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠাতে হবে। কিন্তু তা না করে প্রকল্পের কাজ শেষ দেখিয়ে গত ৩০ জুন সরকারি কোষাগার থেকে সোলার প্যানেল প্রকল্পের টাকা তুলেন পিআইও। পরে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য তিনি উদ্দীপনের সঙ্গে চুক্তি করেন। এখন অভিযোগ উঠেছে, পিআইও ও উদ্দীপন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এই অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিআইওকে চাপ দিলে গত সপ্তাহে উদ্দীপন ১০ থেকে ১২টি সোলার প্যানেল স্থাপন শুরু করে।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুমন চৌধুরী বলেন,‘আমার এলাকা সোলার প্যানেল স্থাপন প্রকল্পের আওতাভুক্ত বলে শুনেছি। কিন্তু এখনও বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা বা ইউনিয়ন পরিষদে কোনও সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়নি।’ একই কথা জানান আরও কয়েকজন চেয়ারম্যান।
টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে সোলার প্যানেল স্থাপন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। তাই কাজ শেষ না হলেও টাকা তোলা হয়। কাজ শেষ হওয়ার আগে অগ্রিম টাকা দেওয়ার সরকারি নীতিমালা আছে। তাই উদ্দীপনকে অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছে।’
উদ্দীপনের রায়পুরের এরিয়া ম্যানেজার লিটন মিয়া বলেন, ‘প্রকল্পের শুরুতেই পিআইও অফিসের কিছু সমস্যার কারণে কাজ শেষ দেখিয়ে টাকা তোলা হয়। যাই হোক, তালিকাভুক্ত এলাকাগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ চলছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী রায় বলেন, ‘অভিযোগ নিয়ে আমি নিজেও খুব চিন্তিত। আমার কাছেও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এই অভিযোগ করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরিজমিনে পরিদর্শন ছাড়াই বিল দিয়েছেন বলে আমিও শুনেছি। কাজ শেষ না করে পুরো বিল দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’