আমাদের বরগুনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিশখালী নদীর মোহনায় ইলিশ শিকারের অভিযোগে ছয় জেলেকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাঁচ জনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ইউএনও) শাহ মো. কামরুল হুদার আদালত তাদেরকে সাজা দেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রবিবার (১ অক্টোবর) ভোররাতে বিশখালী নদীর মোহনা থেকে তাদের আটক করা হয়।
শাহ মো. কামরুল হুদা জানান, বিশখালী নদীর মোহনায় কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়ে জাটকা ইলিশসহ তিনটি নামবিহীন ছোট ট্রলারসহ ছয় জেলেকে আটক করে। জব্দ মাছগুলো এতিমখানার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে জব্দ ট্রলারগুলো বিশখালী নদীতে নিয়ে তলা ফুটো করে ডুবিয়ে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
জেলেরা হলেন বরগুনা সদর উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মো. কাঞ্চন হাওলাদারের ছেলে কাইউম (১৩), কবির খানের ছেলে মাহবুব (১৮), মৃত মো. আলী খানের ছেলে আবু হানিফ, মৃত হাসেম ফকিরের ছেলে আফজাল (৮০) ও কুমিরমারা গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সোহেল (১৮) ও হাতেম ফকিরের ছেলে ছালাম (৪৬)।
রবিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভোলা জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রেজাউল করিম জানান, দৌলতখান উপজেলায় আটক সাত জেলের চার জেলেকে এক মাস করে কারাদণ্ড ও তিন জেলের প্রত্যেককে ছয় হাজার টাকা করে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেঘনার বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়।
তিনি জানান, মনপুরা উপজেলার হাজির হাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন চৌমহনী মোড়ে অভিযান চালিয়ে রবিবার সকাল ১০টায় ৬০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। উপজেলা মৎস্য অফিসারের নেতৃত্বে জব্দ ইলিশ মাছগুলো স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিম খানায় বিতরণ করা হয়েছে।
রামগতি উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলীর নেতৃত্বে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ মেঘনা নদীর চরগজারিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় আইন অমান্য করে মাছ ধরার দায়ে নয় জেলেকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয় একটি নৌকা ও ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল। জব্দকৃত জালে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করা হয়। পরে আটক জেলেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।’
রবিবার ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ ২২ দিন ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় মাছ ধরা যাবে না। এ সময় মাছ শিকার, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ। এ আইন আমান্য করলে জেল অথবা জরিমানা এবং উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ইলিশ ধরায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুই জেলেকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে।
রবিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর রহমান ও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলামের ভ্রাম্যমাণ আদালতে এই সাজা দেওয়া হয়।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুয়াকাটার গঙ্গামতি এলাকা থেকে আটক জেলে আব্দুর রাজ্জাকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও আন্ধারমানিক নদীর হোসেনপুর এলাকা থেকে আটক বাকুল আক্তারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্টগার্ড জানায়, পশুর নদীর মংলা নালা ও লাউডোব ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে ১০০ কেজি জাটকা এবং এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করেন তারা। তবে এ সময় কাউকে আটক করতে পারেনি কোস্টগার্ড। পরে আটক জাল ও মাছ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম ও মৎস্য অফিসার ফেরদাউস আনসারীর উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।
কোস্টগার্ড জানায়, ধ্বংস করা জাল ও মাছের বাজার মূল্য ৫০ লাখ টাকা। মা ইলিশ রক্ষা এবং সুন্দরবন সংলগ্ন নদী-নালা, বন্যপ্রাণী রক্ষা ও জেলেদের নিরাপত্তার জন্য কোস্টগার্ড এ অভিযান অব্যাহত রাখবে।