পদ্মা সেতু দেখতে ভিড় দর্শনার্থীদের




পদ্মা সেতু দেখতে এসে দর্শনার্থীদের সেলফি

স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে প্রথম স্প্যান বসেছে শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর)। এরপর থেকে দর্শনার্থীদের আগ্রহ যেন আরও বেড়েছে। বিভিন্ন নৌযানে করে নদীর বুকে ঘুরে ঘুরে তারা দেখছেন ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞ।

রবিবার (১ অক্টোবর) বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে বেশ কয়েকটি পরিবার শরীয়তপুরের মাঝিরঘাটে এসেছেন। পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারসহ স্প্যানটি মাঝিরঘাট থেকে দেখা যায়। তারপরেও আরও কাছ থেকে দেখার জন্য তারা একটি ট্রলার ভাড়া করে পিলারের কাছে চলে যান।


পদ্মা সেতু দেখতে আসছে সব বয়সের দর্শনার্থীস্ত্রী ও দুই সন্তানকে পদ্মা সেতুর নির্মাণযজ্ঞ দেখাতে নিয়ে এসেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ইশ্রাফিল হোসেন। তিনি বলেন, ‘পেশাগত কাজে আমি প্রায়ই আসি। কিন্তু শনিবার প্রথম স্প্যান বসানোর কথা শুনে পরিবারের সদস্যরা বায়না ধরেছে তারা স্বচোখে দেখবে। তাই দুই সন্তানকে নিয়ে চলে আসলাম।’
পদ্মা সেতু দেখতে এসেছেন শরীয়তপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রেকর্ডকিপার রানী আক্তার। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু একটি ইতিহাস এবং আমাদের গর্ব। ইতিহাসের সাক্ষী হতে দুই ছেলেকে নিয়ে দেখতে এসেছি।’
ঘাট থেকে একটি ট্রলার নিয়ে ৩৭ নম্বর পিলারের কাছে যেতেই দেখা গেল, দু’টি স্পিডবোট ও একটি ট্রলারে প্রায় ৩০/৩৫ জন দর্শনার্থী নদীর মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা পদ্মা সেতুর পিলার ও স্প্যান দেখছেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে নিজেদের উপস্থিতি ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে একের পর এক ছবিও তুলছেন তারা।
প্রথম স্প্যান বসেছে পদ্মা সেতুতেটেলিভিশনে স্প্যান বসানোর সংবাদ দেখে ঢাকা থেকে মাওয়া এবং সেখান থেকে স্পিডবোট ভাড়ায় নিয়ে পিলারের কাছে এসেছেন তরুণ দম্পত্তি কাজী রফিক ও ইসমাত লুবনা। দু’জনের বাড়িই দক্ষিণবঙ্গে, ফরিদপুর ও বরিশালে। ভবিষ্যতে এই সেতু দিয়েই তারা বাড়ি যাবেন, তাই তাদের গর্বটা একটু বেশিই।
রফিক ও লুবনা জানান, প্রমত্তা পদ্মার বুকে এত বড় একটা সেতু হচ্ছে, তাই নিজেদের টাকা খরচ করে দেখতে এসেছেন। ছয় মাস আগেও একবার এসেছিলেন। এখন স্প্যান বসানোর সংবাদ শুনে আবার দেখতে এসেছেন। 
পদ্মা সেতু সংলগ্ন মাঝিরঘাটের ট্রলার চালক রশিদ মাতবর জানান, সেতু দেখতে সারাদিনই কমবেশি মানুষ আসছে। কেউ কাছে গিয়ে দু’একটা ছবি তুলেই চলে আসে। আবার অনেকে সময় নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখে। দর্শনার্থীদের কাছ থেকে তিনি ২০০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেন।
মাঝিরঘাট লঞ্চঘাটের ইজারাদার মনির খান বলেন, ‘এই ঘাট দিয়ে নৌপথে প্রতিদিন ৬/৭ হাজার মানুষ ঢাকা-শরীয়তপুর যাতায়াত করে থাকেন। পদ্মা সেতুর পিলারের পাশ দিয়ে লঞ্চসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল করে থাকে। এইসব যাত্রীরা লঞ্চে বসেই পদ্মা সেতুর কাজ দেখেন, ছবি তোলেন। এর বাইরে ঘাট থেকে ট্রলার ও স্পিডবোট ভাড়া নিয়ে অনেকে দেখতে যাচ্ছেন।