বান্দরবানে লাইসেন্স করতে চাল ব্যবসায়ীদের তাগাদা

সরকারি নির্দেশ মেনে লাইসেন্স নেবেন বান্দরবানের চাল ব্যবসায়ীরাখাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই বান্দরবানের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নেওয়ার জন্য তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবসায়ীই নতুন করে লাইসেন্স নেননি বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা।
খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জেলায় ২৬ জনের মধ্যে সদরে ৯ জন, রুমাতে দু’জন, থানচিতে তিন জন, রোয়াংছড়িতে তিন জন, লামাতে তিন জন, আলিকদমে তিন জন ও নাইক্ষ্যংছড়িতে তিন জন ডিলার রয়েছেন। জেলায় চালের পাইকারি ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১৫— ১৩ জন সদর ও দু’জন আলিকদমের। এছাড়া, সদরের ৯ জন, লামার ১৬ জন, নাইক্ষ্যংছড়ির ১৪ জন, আলিকদমের ৯ জন ও থানচির একজন মিলিয়ে জেলার খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা সংখ্যা ৪৯ জন। তবে চালের কোনও আড়তদার নেই বান্দরবানে।
চাল ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স গ্রহণ প্রসঙ্গে বান্দরবান বাজারের ইসহাক স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী মো. রবিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ছোট-খাট খুচরা ব্যবসায়ী। এখানকার পাহাড়ি জনপদে অন্যান্য জেলার মতো ব্যবসাও নেই। কিন্তু তারপরও আমরা ফুড ও ট্রেডসহ অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবেই ব্যবসা করছি। কয়েকদিন আগে খাদ্য অধিদফতর থেকে এক কর্মকর্তা এসে নতুন করে লাইসেন্স নিতে বলেছেন। এতগুলো লাইসেন্স থাকার পরও নতুন করে লাইসেন্স নেওয়াটা আমাদের মতো খুচরা ব্যবসায়ীর জন্য বাড়তি চাপের।’ তবে সরকারি নির্দেশনা মেনেই বৈধভাবে ব্যবসা করতে চান বলে জানান তিনি।
বান্দরবান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. আইয়ুব বলেন, ‘খাদ্য অফিসের একজন কর্মকর্তা এসে লাইসেন্সের বিষয়ে বলে গেছেন। তবে আমাদের কোনও অফিশিয়াল নোটিশ দেওয়া হয়নি। কতদিনের মধ্যে লাইসেন্স নিতে হবে, তাও জানানো হয়নি।’ তিনিও সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নেবেন বলে জানান।
বান্দরবান বাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারী মো. ওসমান গণি বলেন, ‘আমাদের সমিতিতে বর্তমানে ৪০-৪২ জন সদস্য রয়েছেন। আমরা সবাই বৈধ ব্যবসায়ী। আমার সবার ফুড ও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। তবু নতুন লাইসেন্স নিতে হলে আমরা নেবো। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চলতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। চাল মজুদের হিসাব দিতেও আমাদের কোনও সমস্যা নেই। তবে বান্দরবানে অন্যান্য জেলার মতো বড় কোনও ব্যবসায়ী নেই। অন্য জেলার খুচরা ব্যবসায়ীরাও এখানকার পাইকারি ব্যবসায়ীর চেয়ে বড় ব্যবসায়ী। তাই এখানে নিয়ম কিছু শিথিল করার প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।’
বান্দরবান জেলা খাদ্য অধিদফতরের প্রধান সহকারী হিরা লাল তঞ্চঙ্গ্যা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সরকারি নির্দেশনা পেয়ে এরই মধ্যে লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়ে সব চাল ব্যবসায়ীকে জানিয়েছি। ব্যবসায়ীরাও লাইসেন্সের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। সঠিক সময়ের মধ্যে লাইসেন্স না করলে তাদের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে বিধিমোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
জেলা খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে চালের মোট মজুদ ৪৬৪ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সদরে মজুদের পরিমাণ ৩৩৫ মেট্রিক টন, রোয়াংছড়িতে ৫ মেট্রিক টন, রুমাতে ১০ মেট্রিক টন, থানচিতে ১১ মেট্রিক টন, লামাতে ৬০ মেট্রিক টন, আলিকদমে ৫ মেট্রিক টন ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩৮ মেট্রিক টন। তবে জেলার খাদ্যগুদামগুলোতে কোথাও কোনও গম মজুদ নেই।
হিরা লাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘আমাদের জেলাতে কিছু পরিমাণ চাল মজুদ আছে। তবে গম বা অন্য কিছু মজুদ নেই।’ সরকারি গুদাম ছাড়া পাবলিক কোনও গুদাম যেমন বান্দরবানে নেই, তেমনি এই জেলায় কোনও আড়তদার নেই বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন-
শীত আসছে, বাড়ছে সোনাতলার নারীদের ব্যস্ততা

ঝিনাইদহে লাইসেন্স করতে চাল ব্যবসায়ীদের নোটিশ