ঋণ পরিশোধের ২ বছর পর গ্রাহকের নামে ব্যাংকের নোটিশ!

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকমান্নান মোল্লা স্থানীয় কৃষি ব্যাংক থেকে ১৯৯৮ সালে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। যথাসময়ে ঋণ ফেরত না দেওয়ায় সার্টিফিকেট মামলা হয় তার নামে। পরে ২০১৫ সালের নভেম্বরে সেই ঋণ শোধ করেন তিনি। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তার নামের মামলাটিও প্রত্যাহার করা হয়। এরও প্রায় দুই বছর পর মান্নান মোল্লাকে পাঠানো হয়েছে সতর্কীকরণ নোটিশ। তাতে বলা হয়েছে, ঋণ পরিশোধ না করলে তার মালামাল ক্রোক করে নেওয়া হবে। এ ঘটনা ঘটেছে কৃষি ব্যাংকের গাজীপুরের শ্রীপুর শাখায়। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিয়েছে, ভুলক্রমেই নোটিশটি পাঠানো হয়েছিল ওই গ্রাহকের নামে।
কৃষি ব্যাংক শ্রীপুর শাখার ভুলের স্বীকার হয়ে ঋণ পরিশোধের দুই বছর পরও ঋণ পরিশোধের চিঠি পেয়েছেন মান্নান মোল্লা। শ্রীপুর উপজেলার চিনাশুখানিয়া গ্রামে তার বাড়ি। বর্তমানে কর্মসূত্রে দেশের বাইরে রয়েছেন তিনি।
মান্নান মোল্লার স্বজনেরা জানিয়েছেন, মান্নান মোল্লা ১৯৯৮ সালের ২৫ অক্টোবর শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী শাখা কৃষি ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নেন। এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে একটি সার্টিফিকেট মামলার (নং ৯৩/১৪-১৫) ভিত্তিতে তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠানো হয়। ওই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২০১৫ সালের ১৭ নভেম্বর ঋণের টাকা পরিশোধ করে রিসিভ কপি বুঝে নেন। পরে ২০১৬ সালের ৪ জানুয়ারি শ্রীপুর থানা শাখা কৃষি ব্যাংক থেকে তার মামলা প্রত্যাহার করে ব্যাংকের প্যাডে একটি নিশ্চয়তাপত্রও দেওয়া হয়।
স্বজনেরা জানান, প্রায় দুই বছর পর গত শুক্রবার (৬ অক্টোবর) গ্রাহক মান্নান মোল্লার নামে মালামাল ক্রোকের সতর্কীকরণ নোটিশ পান তারা। এমন নোটিশ পেয়ে তারা স্বভাবতই হতবাক হয়ে পড়েন। পরে রবিবার (৮ অক্টোবর) বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কাছে গেলে তিনি তৎক্ষণাৎ গ্রাহকের নাম হিসাবের খাতা থেকে ক্লোজ করার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা শাখা কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সুলতান উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খসড়া দেখে নোটিশটি পাঠানো হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকের স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি সামাধান করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন-
১৫ বছর ধরে জেনেশুনে বিষপান!

বান্দরবানে লাইসেন্স করতে চাল ব্যবসায়ীদের তাগাদা