হাওর এলাকায় স্বল্প জীবনকালের ধান চাষের পরামর্শ

সুনামগঞ্জে কৃষকদের জন্য স্বল্প জীবনকালের ধান চাষের ওপর প্রশিক্ষণঅকাল বন্যার হাত থেকে হাওর এলাকার বোরো ফসল রক্ষা করতে স্বল্প জীবনকালের ব্রি ধান ২৮, ব্রি ধান ৪৫, ব্রি ধান ৭৪ বেশি করে চাষাবাদের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইসলাম উদ্দিন মোল্লা। তিনি বলেন, ‘জমির অবস্থান উর্বরতা ও পাহাড়ি ঢল নামার সময় বুঝে উপযুক্ত ধানের জাত নির্বাচন করতে হবে।’
বুধবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে শহরের মল্লিকটুর এলাকায় সুনামগঞ্জ খামার বাড়ির কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সদর উপজেলা কোরবাননগর, জাহাঙ্গীরনগর, গৌরারং ও লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের ৬০ জন কৃষকের উপস্থিতিতে হাওর অঞ্চলে আধুনিক ধান উৎপাদন কলা কৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষণে ড. ইসলাম উদ্দিন এসব কথা বলেন। হাওর এলাকায় বেরো মওসুমে ধান চাষাবাদে করণীয় বিষয়ে গাজীপুরে অবস্থিত ব্রি’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছাড়াও অন্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাওর এলাকায় বোরো মৌসুমে সঠিক জাতের ধান উপযুক্ত সময়ে চাষাবাদ না করা হলে একদিকে ঠাণ্ডার কারণে ধানে চিটা পড়তে পারে, অন্যদিকে অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল বা আকস্মিক বন্যায় আধাপাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ধানের প্রজনন পর্যায়ে গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে পাঁচ দিনের বেশি সময় থাকলে ধানের অতিরিক্ত চিটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় হাওর এলাকায় বৈশাখের তৃতীয় সপ্তাহে পাহাড়ি ঢলে বন্যা আসে। বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে ধান পাকলে একদিকে যেমন চিটা হবে না, অন্যদিকে ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে যাবে।
হাওর এলাকায় ফসলহানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কৃষকদের জমির অবস্থান, উর্বরতা ও পাহাড়ি ঢল নামার সময় বুঝে উপযুক্ত ধানের জাত নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ধানের রোগ-বালাই পোকামাকড়সহ বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে ঝুঁকিমুক্ত ধান চাষাবাদ ও নিরাপদ ফসল সংগ্রহ করার জন্য সব জমিতে এক জাতের ধান চাষ না করে স্বল্প জীবনকালের বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা যেতে পারে।
প্রশিক্ষণ কর্মশলায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মো. শাহদাত হোসেন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন টিপু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে একের পর এক ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে সুনামগঞ্জের ২৪৭টি হাওরেরর এক লাখ ৬৭ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সাড়ে তিন লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এরপর থেকেই সরকারি উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য স্বল্প জীবনকালের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন-
কলেরার টিকা পেলো দুই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা

হিলিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেড় হাজার, প্রণোদনা পাবেন একশ কৃষক

ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা: বরিশাল বিভাগে ১০ দিনে তিনশ জেলের কারাদণ্ড