‘বড়ইতলা গণহত্যা দিবস’ সরকারিভাবে পালনের দাবি

বড়ইতলার গণহত্যাস্বাধীনতার ৪৬ বছর পার হলেও বড়ইতলার গণহত্যা দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পায়নি। ১৯৭১ সালের ১৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার এই গ্রামে ৩৬৫ জনকে হত্যা করা হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কয়েকটি গ্রামও।  তাই গণহত্যার শিকার লোকজনকে শহীদদের মর্যাদা, তাদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধটির সংস্কার ও স্থানীয় রাজকারদের বিচার এবং সেই সঙ্গে দিনটিকে সরকারিভাবে পালনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

‘দাঁড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব এ বঙ্গে! তিষ্ঠ ক্ষণকাল! এ সমাধিস্থলে’- শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে খোদাই করা কবিতার এ দুইটি লাইন বেদনাময় সেই রক্তাক্ত দিনটির কথা মনে করিয়ে দেয়। আর এভাবেই প্রতিবছর দুঃস্বপ্নের মতো কিশোরগঞ্জের যশোদল ইউনিয়নের বড়ইতলা গ্রামে ফিরে আসে ১৩ অক্টোবর। সেদিন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে এলাকায় কারবালা হয়েছিল। কয়েকশ’ মানুষকে হত্যা করে উল্লাস করে হানাদাররা। বছর ঘুরে দিনটি ফিরে এলে সেই দুঃসহ স্মৃতি কাঁদায় স্বজনহারাদের।

ওই দিন বেয়োনেটের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েও ভাগ্যের জোরে বেঁচে গিয়েছিলেন চিকনিরচর গ্রামের শরাফত উদ্দিন ও তার বড় ভাই মোমতাজ উদ্দিন। আজও তারা সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। যশোদল ইউনিয়নের নয়টি গ্রামের মানুষ এই হত্যাযজ্ঞের শিকার হলেও তারা আজও পাননি শহীদদের মর্যাদা। স্বজনহারাদের দেওয়া হয়নি কোনও সান্ত্বনা। শহীদদের স্মরণে এলাকায় নির্মিত স্মৃতিসৌধটি অযত্ন-অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। স্তম্ভে লেখা শহীদদের নাম  মুছে গেছে অনেক আগেই।

বড়ইতলার গণহত্যাশহীদদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে জমি দিয়েছেন আরেক স্বজনহারা আব্দুর সাত্তার। আর সেই জমির ওপরেই দাঁড়িয়ে আছে বর্তমান স্মৃতি সৌধটি।

আব্দুস সাত্তার বলেন, বর্তমানে সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে। কিন্তু ইতিহাসের নৃশংসতম এ গণহত্যার পেছনে যে স্থানীয় রাজাকারদের ইন্ধন ছিল, তাদের বিচারে কোনও উদ্যেগ নেওয়া হচ্ছে না। আমি সরকারের কাছে এ গণহত্যায় জড়িতদের বিচার দাবি করছি।’

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, সেদিন যাদের নিমর্মভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তাদের পূর্ণ তালিকা তৈরির জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তালিকা তৈরির পর ইউনিয়ন পরিষদ অথবা জেলা পরিষদের মাধ্যমে সেখানে নির্মাণ করা স্মৃতিস্তম্ভের সংস্কার এবং আধুনিকায়নের চেষ্টা করবো। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের যে স্মৃতি সেটিকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করব।

আরও পড়ুন:

‘বিবৃতি’ ও ‘কথায়’ যা জানিয়ে গেলেন প্রধান বিচারপতি

দেশ ত্যাগ করলেন প্রধান বিচারপতি

হেয়াররোড থেকে এয়ারপোর্ট