মোটরসাইকেলে নিজ এলাকায় ঘুরলেন পরিকল্পনামন্ত্রী

মোটরসাইকেলে পরিকল্পনামন্ত্রী (ছবি- প্রতিনিধি)

চলছে মোটরসাইকেল। চালকের আসনে বসে আছেন একজন; তার ঠিক পেছনে তার মতোই লাল হেলমেট পরে বসে আছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আঁকাবাঁকা মেঠো পথ, কোথাও কোথাও অসংখ্য গর্ত। তবু ছুটে চললেন তারা।

রবিবার (১৫ অক্টোবর) দিনভর কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলঘর ও ভুলুইন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম মোটরসাইকেলে করে চষে বেড়ালেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তবে তার উদ্দেশ্য ঘুরে বেড়ানো ছিল না; উদ্দেশ্য ছিল নিজ এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের খোঁজ-খবর নেওয়া। করলেনও তাই।

স্থানীয়রা জানান, মোটরসাইকেলে লাল হেলমেট পরা মন্ত্রীকে দেখে তারা বিস্মিত-ই হন। বিস্ময়ের ঘোর কাটে তখন, যখন মন্ত্রী তাদের কাছে ডেকে করমর্দন করেন। ওই সময় সুযোগ বুঝে মন্ত্রীকে নিজেদের অভাব-অনটন, সমস্যা-সংকটের কথা জানান তারা। মন্ত্রীও তা সমাধানের আশ্বাস দেন।

বেলঘরের এক গ্রামে উপস্থিত হয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের এখন এগিয়ে যাবার সময়। দেশের অগ্রগতি দেখে কিছু রাজনৈতিক দল পিছন থেকে দেশকে টেনে ধরার ষড়যন্ত্র করছে। নৌকার সমর্থকদের সজাগ থেকে ওইসব ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে হবে।’

ভুলুইনের এক গ্রামে দাঁড়িয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘মানুষকে ভালবাসা-মায়া-মমতা দিয়ে কাছে টানতে হবে। মানুষের সেবায় সবাইকে কাজ করতে হবে। এতে মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনীতির লক্ষ্যটা বুঝবে, নৌকাকে জয়যুক্ত করবে।’

মোটরসাইকেল থামিয়ে মানুষের সুখ-দুঃখের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন পরিকল্পনামন্ত্রী (ছবি- প্রতিনিধি)

এসময় আ হ ম মুস্তফা কামালের মোটরসাইকেলের বহরে সঙ্গী হয়েছিলেন সদর দক্ষিণ উপজেলার চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার, নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, বেলঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের মজুমদার ভুঁইয়া ও ভুলুইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একরামুল হক প্রমুখ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদারের ইন্তেকালের পর কুমিল্লা-৯ নির্বাচনি এলাকায় ভোটের রাজনীতিতে আসেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়ার পদ্ধতিটা ছিল অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের চেয়ে আলাদা। তিনি তার পুরো নির্বাচনি এলাকায় দেয়ালে দেয়ালে লিখেন, ‘সত্য কথা বলেও রাজনীতি করা যায়’, ‘পিতা-মাতার সর্বোচ্চ দায়িত্ব তাদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা’, ‘রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে ভালবাসা, মানুষের কল্যাণে কাজ করে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা’ ইত্যাদি।