হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রধানত খাদ্যদ্রব্য চাল, পাথর, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, খৈল, সয়াবিনের ভুষি, ইত্যাদি জাতীয় পণ্যই আমদানি হয়ে থাকে। তবে এর পূর্বে বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ তাজা ফল, মাছ আমদানি হলেও তাজা ফল ও মাছ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক নির্ধারণ নিয়ে জলিতা থাকার কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ওই সকল পণ্যের আমদানি গত তিন অর্থবছর থেকে বন্ধ রয়েছে। তবে পদ্মাসেতুসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতীয় পাথরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি বড় ও ছোট আকারের পাথর, চাল এবং পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে এর পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য সামান্য পরিমাণে আমদানি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দর শুল্কস্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১৪ লাখ ৮১ হাজার ৬৯টন বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে অর্থবছর শূরুর জুলাই মাসে বন্দর দিয়ে ৯১ হাজার ১৯৩টন পণ্য আমদানি হয়েছে, আগস্ট মাসে ২৪ হাজার ৩৪টন, সেপ্টেম্বর মাসে ৯৪ হাজার ৭৬টন, অক্টোবর মাসে ৬৩ হাজার ৭৮৭টন, নভেম্বর মাসে ১লাখ ১৪ হাজার ৩১০টন, ডিসেম্বর মাসে ১লাখ ২৪ হাজার ৪৭৯টন, জানুয়ারি মাসে ১লাখ ৯৭ হাজার ১৫৮টন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১লাখ ৪৯ হাজার ১৮৭টন, মার্চ মাসে ১লাখ ৬৯ হাজার ৪৩২টন, এপ্রিল মাসে ১লাখ ৮১ হাজার ৮টন, মে মাসে ১লাখ ৫১ হাজার ৩৪৬টন, জুন মাসে ১লাখ ২১ হাজার ৫৩টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ আমদানি হয়েছে পাথর, পেঁয়াজ, চাল ও খৈল। এর আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৮লাখ ১০ হাজার ১২৯টন চাল, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছিল।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি মো. হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের নির্মাণাধীন বৃহত্তম পদ্মাসেতু, রুপপুর পারমানবিক কেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে প্রচুর পরিমাণে পাথর ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে আমদানিকৃত ভারতীয় পাথরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে পাথর আমদানি হচ্ছে। এছাড়াও দেশের বাজারে চালের চাহিদা মেটাতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে চাল আমদানি করা হয়েছে। এছাড়াও দেশে পেঁয়াজের মোট চাহিদার বেশিরভাগই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়ে থাকে। এবছরে বন্যা ও অতিৃবষ্টির কারণে পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হয়ে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হওয়ার ফলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পূর্বের তুলনায় পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। এসব কারণে গত বছরের তুলনায় সমাপ্ত হওয়া অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ বেড়েছে।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার মো. মশিয়ার রহমান মন্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন চাল, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ এ জাতীয় পণ্যের অধিক পরিমাণ আমদানি হয়ে থাকে। এছাড়াও বন্দর দিয়ে বেশ পরিমাণে পাথর আমদানি হচ্ছে। বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত এসব পণ্যগুলো অতিদ্রুত কাস্টমসের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বন্দর থেকে ছাড় দেওয়া হয়। যার কারণে দেশের অন্যান্য বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির চেয়ে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে সময় ও খরচ কম লাগে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানের আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত হয়েছেন। এছাড়াও ভারতীয় কাস্টমসের সঙ্গে আলোচনা করে অতি দ্রুত পণ্য রফতানি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পূর্বের তুলনায় পণ্য আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের পরিধিও বেড়েছে। এছাড়াও হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনে আমদানি রফতানিকৃত পণ্যের বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু করে, এক্সামিন, অ্যাসেসমেন্ট, আউটপাশ কার্যক্রম আগামী এক দুই মাসের মধ্যে পুরোপুরি কম্পিউটারাইজড পদ্ধতির মধ্যে আনা হবে। যা এখন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চলছে। এর ফলে পণ্য আমদানি রফতানির ক্ষেত্রে সময় আরও কম লাগবে। এর ফলে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ বাড়বে।