রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার (২২ অক্টোবর) থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ায় ক্যাম্পাসে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ভোগান্তি বাড়াবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর সূত্রে জানা যায়, ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ই-১’, সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ‘ই-২’ ও সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ‘ই-৩’ রোল নম্বরধারীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কলা অনুষদভুক্ত ‘এ-১’ ও বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ‘এ-২’ রোল নম্বরধারী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সব ধরনের জালিয়াতি রোধে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভ্রাম্যমাণ আদালত, গোয়েন্দা সংস্থা, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটের সদস্যরা কাজ করবে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত ৩টি পুলিশ বুথ ছাড়াও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসের প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার বিশেষ দিক নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে, টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তায় হাটু পানি পর্যন্ত জমে গেছে। ফলে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।
শনিবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে, টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন এলাকা, চারটি বিজ্ঞান ভবনের সামনে, শহীদুল্লাহ কলাভবন, মমতাজউদ্দিন কলাভবনসহ বিভিন্ন মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এর আগের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে জলাবদ্ধতা না থাকলেও চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হতো। কিন্তু এবার বৃষ্টিতে কিছু রাস্তা পানির নিচে চলে গেছে। এছাড়া, অভিভাবকরা পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন ভবনের সামনে ও মাঠে অবস্থান করতেন। কিন্তু এবার সেই জায়গা নেই। তাহলে এত সংখ্যক মানুষের জায়গা হবে কোথায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘ক্যাম্পাসের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে শিক্ষক-শিক্ষর্থীসহ সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘পানি সরিয়ে দেওয়ার জন্য (শনিবার) ড্রেন খুলে দেওয়া হয়েছে। আর অভিভাবকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন খুলে দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদে ৫৯টি বিভাগে চার হাজার ৬৩৬টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন তিন লাখ ১৬ হাজার ১২০ ভর্তিচ্ছু। যা গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। প্রতি আসনে লড়বেন ৬৮ জন ভর্তিচ্ছু। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবে ২৬ অক্টোবর।