ভারী বৃষ্টিতে যশোরে পানিবন্দি হাজারো মানুষ

for all editors by Nadim

নিম্নচাপের কারণে গত দু’দিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে যশোর শহর। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারেরও বেশি পরিবার। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার  রাত থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত যশোরে ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নিম্নচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো বৃহস্পতিবার  মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে বর্ষণ। এরপর শনিবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। 

যশোর বিমান বাহিনী মতিউর রহমান ঘাঁটি আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত যশোরে ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার রেকর্ড হয়েছে ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টি। আর শনিবার সকাল পর্যন্ত আরো ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিরেকর্ড করা হয়েছে।

যশোর শহর ঘুরে দেখা গেছে শংকরপুর, ভোলা ট্যাংক রোড, রেল রোড, টিবি কিনিক এলাকা, ষষ্টিতলা পাড়া, শংকরপুর, খড়কি, সিটিকলেজ পাড়া, পূর্ববারান্দী-মাঠপাড়া, লিচুতলা, বেজপাড়া আনসার ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার ঘরের মেঝেতে দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত পানি উঠে গেছে। রাস্তার উপরে পানি উঠে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না কেউ।

শংকরপুর ইসহাক সড়ক এলাকার ইলিয়াস হোসেন জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকার প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে যান। এবার বর্ষার আগে ড্রেনেজের কিছু কাজ হলেও তার ফল পারছেন না তারা।

একই এলাকার আব্দুল আজিজ ও আনছার আলী জানান, গত দুদিন বৃষ্টি তার উপর ঘরে পানি উঠায় শিশু সন্তানদের নিয়ে বেশ বিপাকে আছেন। ঠিকমত খাওয়া দাওয়া হচ্ছে না। প্রাকৃতিক কাজটিও সারতে পারছেন না। 

জুলফিকার আলী নামে এক বাসিন্দা বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এমন যে শহরের সব পানি এ এলাকা দিয়ে বিলে পড়ে। কিন্তু বিলে পানি যাওয়ার আগে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় এ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। মাত্র ছোট দুটি কালভার্ট দিয়ে চুঁইয়ে পানি যাওয়ায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে। 

মোল্লপাড়া আমতলা এলাকার আব্দুল মান্নান বলেন, তার ঘরের ভিতর পানি উঠে গেছে। যার কারণে চলাচলও করতে পারছেন না। তিনি জানান, বাড়ির পাশে ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে যায়। যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে তার পরিবার। একই এলাকার রীনা খাতুন ও জাকির হোসেন জানান, মাঠপাড়া এলাকায়ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে গেছে।

টিবি কিনিক এলাকার মাহমুদ জানান, শহরের কোথাও পানি না জমলেও তাদের এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে যায়। এলাকাটা নিচু হওয়ায় এ অবস্থা। তবে শংকরপুর থেকে পানি বের করার ব্যবস্থা জোরদার করতে পারলে তাদের এলাকায় আর জলাবদ্ধতা দেখা দিত না। এজন্য তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর মোবাইলফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে প্যানেল মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে। সেকারণে পানিপ্রবাহ কোথাও কোথাও আটকে যাচ্ছে। ড্রেন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এসব অঞ্চল জলাবদ্ধ হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।