জানা গেছে, শিশু শিক্ষা বিস্তারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বুলেট মল্লিক। শিশুদের জন্য তিনি সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাড়ির আঙিনায় হেনা শিশু কানন বিদ্যানিকেতন নামে ১০টি পাঠশালা গড়ে তুলেছেন। এসব পাঠশালায় শিশুদের বিনামূল্যে ব্যাগ, খাতা, কলম, পেন্সিল, স্কুল পোশাকসহ শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়। স্কুলে নিজের টাকায় শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। এসব পাঠশালায় বিনামূল্যে পড়ানো হয়।
জানা গেছে, প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি এসব পাঠশালায় শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা করানো হয়।
বুলেট মল্লিক বাদল কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পীড়ারবাড়ি গ্রামের সুভাষ মল্লিকের ছেলে। তিনি ২০১৩ সালে এলএলবি পাস করেন। বর্তমানে ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।
বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া অনুদান ও নিজের আয়ের টাকায় এসব পাঠশালা চলে। গত দেড় বছর ধরে প্রতিটি পাঠশালায় ২৫/৩০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ করছে।
শিক্ষক তপু মল্লিক বলেন, ‘বুলেট মল্লিক বাদলের পাঠশালায় দরিদ্র পরিবারের ছোট শিশুদের অক্ষরজ্ঞান দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। এছাড়া প্রতিদিনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির শিশুরা স্কুল ছুটির পর এ পাঠশালায় আসে। তারা এখানে বসে স্কুলের প্রতিদিনের সব পড়া সম্পন্ন করে বাড়ি ফিরে যায়। বাড়িতে গিয়ে আর তাদের পড়াশোনা করতে হয় না। পাঠশালা শিক্ষকদের প্রতি মাসের বেতন বুলেট মল্লিক দেন।
অভিভাবক সেতু মল্লিক বলেন, ‘আমাদের এলাকার অধিকাংশ পরিবার দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করেন। ছেলে-মেয়েদের প্রাইভেট পড়ানোর সামর্থ আমাদের নেই। তাই ছেলে মেয়েরা পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছিল না। অনেকেই প্রাথমিকের গন্ডি পার হওয়ার আগেই ঝরে যাচ্ছিলো। এর মধ্যে দেড় বছর আগে বুলেট মল্লিক এলাকায় ১০টি পাঠশালা করেছে। প্রতিটি পাঠশালায় ২৫/৩০ জন শিশু পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এখানে শিশুরা এসে ক্লাসের পড়া সম্পন্ন করছে। গত বছর এসব শিশুরা বিদ্যালয়ে ভালো রেজাল্ট করেছে।’
সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ভূতেরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মীর মামুন হোসেন বলেন, ‘বুলেট মল্লিকের পাঠশালা এলাকার শিশুদের মাঝে শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রাখছে। শিশুরা আগে প্রতিদিনের পড়া তৈরি করে স্কুলে আসতো না। ওই পাঠশালার বদৌলতে শিশুরা সেখানে বসেই পড়া তৈরি করে পরেরদিন স্কুলে আসছে। বিদ্যালয়ে ভালো করছে। গত বছরের ফাইনাল পরীক্ষায়ও তারা ভালো করেছে। ঝরে পড়ার হার কমেছে। পশ্চাৎপদ এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠির শিশুদের জন্য এ পাঠশালা অব্যাহত রাখা গেলে শিশুরা আলোর পথে এগিয়ে যাবে।’
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিলাল হোসেন বলেন, ‘নিঃস্বার্থ মানুষরাই শিক্ষা বিস্তারসহ সমাজের সব ধরনের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছেন। তাদেরই একজন তরুণ সমাজসেবক বুলেট মল্লিক বাদল। তার হাত ধরেই পশ্চাৎপদ গ্রামের দরিদ্র শিশুরা আলোর পথযাত্রী হচ্ছে। এটি আমাদের সমাজ ও দেশের জন্য সু-সংবাদ।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ ভুঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের কাজের জন্য বাদলকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সমাজের সামর্থবান যুবকরা এভাবে এগিয়ে আসলে আমাদের এলাকার শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।’
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার অন্যদেরও এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি এই উদ্যোক্তাকে তার সাধ্যমত সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন:
কবে শুরু হবে প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রম?