কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তারা পোকার আক্রমণ বিষয়ে আমাদের কোনও পরামর্শ দেননি। তারা জানিয়েছেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার কারণে ফসলে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, চলতি বছর নীলফামারীতে এক লাখ ১২ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ১০৮ হেক্টর জমিতে। এবছর জেলায় আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৬৯ হাজার ৫৯ দশমিক ২ মেট্রিকটন।
নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের আইয়ুব আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্লাবিত জমিতে পলি জমায় মাটি উর্বর ছিল। সেখানে আমন রোপণের পর চারা বেশ পুষ্ট হয়েছিল। আশা ছিল বিঘা প্রতি ১৬-১৮ মণ ধান হবে। কিন্তু ধান আসার আগেই পোকার আক্রমণ শুরু হয়। কীটনাশক স্প্রে করে কোনও লাভ হচ্ছে না। তাই আমন ধানের ফলন নিয়ে খুবই হতাশার মধ্যে আছি।’
সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের বাউনাবাউনি গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার এক বিঘা জমিতে রোপণ করা আমন ধানে পোকার আক্রমণ হয়েছে। কীটনাশক স্প্রে করেও এই পোকা দমন কর যাচ্ছে না। প্রতি বছর আমন বিক্রি করে পরিবারের পুরো বছরের খরচ ও ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়। ধানের ফলন ভালো না হলে এ বছর পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে।’
সদর উপজেলার উপ-সহাকরী কৃষি কর্মকর্তা ছানারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু কিছু আমন ক্ষেতে পাতা মোড়ানো পোকা, ব্লাইট ও ব্লাস্টসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। তবে এসব পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কেরামত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু এলাকায় আমন ক্ষেতে ব্যাকটেরিয়া লিড ব্লাইট, বাদামি গাছ ফড়িং, পাতা মোড়ানো রোগ বালাই দেখা যাচ্ছে। সাধারণত আগাম জাতের হাইব্রিড ফসলে এসব রোগ দেখা দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের মাঝে নানা পরামর্শ ও পোকা দমনে নানা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এছাড়াও পোকা দমনের বিষয়ে ইউনিয়ন ভিত্তিক কৃষক মাঠ স্কুলে আলোচনা সভা, সমাবেশ করা হচ্ছে। এমনকি আলোর ফাঁদ তৈরি করে পোকা দমনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
নাসিরনগরে হামলার সব আসামিই জামিনে