একই লাইনে দুই ট্রেন, চালকের কারণে রক্ষা

ট্রেন (ফাইল ছবি)

একটি ট্রেন থেমে ছিল। ভুল সংকেত পেয়ে একই লাইন দিয়ে এগিয়ে আসছিল অন্য একটি ট্রেন। বিষয়টি চলন্ত ট্রেনের চালক আঁচ করতে পেরে তার ট্রেনের গতি কমিয়ে দেন এবং একপর্যায়ে ট্রেনটি থামাতেও সক্ষম হন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। রক্ষা পেয়েছেন দুই ট্রেনের অন্তত দুই হাজার যাত্রী।

বুধবার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সিরাজগঞ্জের জামতৈল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। জামতৈল স্টেশনের মাস্টার সোহেল খান ও রেলওয়ে (জিআরপি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইকবাল এ তথ্য জানিয়েছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে (পশ্চিম) বিভাগ।

ওসি সাঈদ ইকবাল বলেন, ‘বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে লালমনিরহাট থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেস উল্লাপাড়া স্টেশন পার হয়ে এসে জামতৈল স্টেশনের ২নং লাইনে প্রবেশ করে। এসময় আন্তঃনগর ট্রেন রাজশাহী এক্সপ্রেস (সিরাজগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঈশ্বরদীগামী) বিপরীত দিক থেকে একই লাইন ধরে আসার অপেক্ষায় ছিল রায়পুর স্টেশনে। বিষয়টি বুঝতে পারেন লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক। গতি কমিয়ে চলন্ত ট্রেন থামিয়ে দেন তিনি। জামতৈল ও রায়পুর স্টেশনের স্টেশন মাস্টারদের ভুল সংকেতের কারণে এমনটা ঘটেছে।’

তবে ভুলের কথা স্বীকার করেননি জামতৈল বা রায়পুর স্টেশনের দুই মাস্টারের কেউ-ই। তারা বরং এ ঘটনার জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করেন।

জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সোহেল খান বলেন, ‘লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন পার হয়ে আসার পর যথারীতি বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত সিগন্যাল দেওয়া হয় রায়পুর স্টেশন মাস্টারকে। কিন্তু তিনি (রায়পুর স্টেশন মাস্টার) রায়পুর স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজশাহী এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইন ক্লিয়ার না দিয়ে নিজের মর্জিমাফিক মতো ওই ট্রেনটি ছেড়ে দেন।’

অন্যদিকে, রায়পুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার আফসার আলী বলেন, ‘জামতৈল স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার জন্য কিছু গোপন নম্বর দেওয়া হয়। এসব নম্বরের অর্থ লাইন ক্লিয়ার রয়েছে, ট্রেন ছাড়া যাবে। আমি সেই মোতাবেক রাজশাহী এক্সপ্রেস ট্রেনকে রায়পুর স্টেশন ছাড়ার সংকেত দিই।’

তবে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে রেলওয়ে (পশ্চিম) বিভাগ। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কমিটিকে তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে তদন্ত কমিটির প্রধান ও পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল, পাকশীর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক অসিম কুমার তালুকদার বলেন, ‘বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে যাত্রীরা রক্ষা পেয়েছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’