নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মামরকপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে বিল্লাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মহিলাসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে এ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের মামরকপুর গ্রামের ইসমাইলের ছেলে ফারুক হোসেনের সঙ্গে উলুকান্দি গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে বিল্লাল হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তারা একে অন্যের আত্মীয় বলে জানা যায়।
বিরোধ নিরসনে পারিবারিকভাবে বিল্লাল হোসেন ও তার ভাই আবুল হোসেন প্রতিপক্ষ ফারুকের বাড়িতে বৈঠকে বসেন। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক চলাকালে মেঘনা শিল্প এলাকার খাঁন ব্রাদার্স নামের একটি শিপইয়ার্ডের ম্যানেজার রুহুল আমিনের সঙ্গে তাদের তর্ক হয়। এক পর্যায়ে রুহুল আমিন পাইপগান দিয়ে বিল্লালের পায়ে গুলি করে। এসময় বিল্লাল হোসেন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে রুহুল আমিন ও তার লোকজন পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিল্লালকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিফাত বেগম ও আলী আকবর নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
বিল্লাল হোসেনের ভাই আবুল হোসেনের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধ মিমাংসার জন্য তারা ফারুকের বাড়িতে যান। বৈঠক চলাকালে অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করেন। এসময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিল্লালকে গুলি করে অপরিচিত ব্যক্তিরা মাইক্রোবাস যোগে পালিয়ে যান।
পুলিশের হাতে আটক সিফাত বেগমের দাবি, তিনি খাঁন ব্রাদার্সে চাকরি করেন। তাদের বাড়িতে দাওয়াতে আসেন খাঁন ব্রাদার্স শিপইয়ার্ডের ম্যানেজার রুহুল আমিন। এসময় বৈঠকে বসেন বিল্লাল ও ফারুক। গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে রুহুল আমিনকেও ওই বৈঠকে রাখা হয়। কথাবার্তার এক পর্যায়ে রুহুল আমিনের পাইপগান থেকে একটি গুলি বের হয়ে বিল্লালের পায়ে বিদ্ধ হয়।
সোনারগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর জাব্বার বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ বিল্লাল হোসেনকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলার প্রস্তুতি ও তদন্ত চলছে।’