‘কু‌ড়িগ্রাম কেন দা‌রি‌দ্রের শী‌র্ষে’ জান‌তে চে‌য়ে মানববন্ধন

কুড়িগ্রামে আয়োজিত মানববন্ধন

কুড়িগ্রাম জেলা কেন দারিদ্রতার শীর্ষে তা জান‌তে চে‌য়ে মানববন্ধন ও সমা‌বেশ ক‌রে‌ছে জেলার রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা জ‌রি‌পে দা‌রিদ্রতার শী‌র্ষে কু‌ড়িগ্রাম জেলার নাম উ‌ঠে আসায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। শ‌নিবার (২৮ অ‌ক্টোবর) একযো‌গে কুড়িগ্রাম জেলার সবক‌টি উপজেলায় মানববন্ধন করে দারিদ্র থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। 

এসময় কুড়িগ্রামের জন্য বিশেষ বাজেট, জনশক্তি রফতানি, রেললাইন ও নদীবন্দর স্থাপন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন তারা্।   

কু‌ড়িগ্রাম জেলা শহ‌রে অনু‌ষ্ঠিত মানববন্ধ‌নে রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি, কুড়িগ্রামের প্রধান সমন্বয়ক  না‌হিদ হাসান ন‌লেজ ব‌লেন, ‘আমরা আবারও অত্যন্ত বেদনার সাথে জানলাম, আমাদের কুড়িগ্রাম জেলাটি এখনও দারিদ্রের শীর্ষে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র হিসাব মতে, কয়েক বছর আগে আমাদের জেলা যখন দারিদ্রতার শীর্ষে ছিল তখন দা‌রিদ্রতার হার ছিল ৬৩ দশমিক ৬৭ ভাগ। এখন তা আরও বেড়ে হয়েছে ৭০ দাশমিক ৮৭ ভাগ। কিন্তু কুড়িগ্রাম জেলার এমন হওয়ার কথা ছিল না।’

তি‌নি আরও বলেনগাইবান্ধা জেলার বালাসিঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত টানেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। আমরা কুড়িগ্রামবাসী রেলপথে সেই টানেলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য নির্মাণাধীন চিলমারী-সুন্দরগঞ্জ তিস্তা সেতুতে রেলপথ যুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছি।’
মানববন্ধ‌নে বক্তারা প্রধানমন্ত্রী‌কে উ‌দ্দেশ ক‌রে ব‌লেন, ‘বর্তমান ঢাকা-চিলমারী রুটে ‘‘ভাওয়াইয়া এক্সপ্রেস’’ নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেনের দাবি পূরণে আপনি কুড়িগ্রাম ও চিলমারীর জনসভায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়াও অর্থনৈতিক জোন, চিলমারী নদীবন্দর, নদ-নদীর ড্রেজিং ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর একটিও এখনও আলোর মুখ দেখেনি।’ 

এসময় বক্তারা আরও বলেন, ‘আমরা কমপক্ষে দুশ’ মেগাওয়াটের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, পুঁজি বিনিয়োগের জন্য ব্যাংক-বীমা স্থাপন ও বিরল প্রজাতির উৎপাদিত শস্যসমূহের বাজার তৈরির ব্যবস্থা চাই। এছাড়াও লালমনিরহাট বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার কথাটিও বিবেচনায় নিতে হবে।’
কু‌ড়িগ্রাম‌কে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাগুলোর স্তরে তুলে আনার জন্য কমপক্ষে আট লাখ মানুষকে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করা এবং জেলার জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বাজেটের দা‌বি জানা‌নো হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ হাসান নলেজ, জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম, সিপিবি নেতা আখতারুজ্জামান রাজু, বাসদ নেতা রুকুনুজ্জামান রুকু, ছাত্রনেতা জনি ও প্রণয়সহ অন্যান্যরা।

এছাড়াও একই দাবিতে রৌমারীতে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও রাজারহাট, উলিপুর ও চিলমারীসহ অন্যান্য উপজেলায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। 



আগামী ২৮ নভেম্বর কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। 



আরও পড়ুন:



আত্রাইয়ের শুঁটকিপল্লিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা

রোহিঙ্গা বসতি গড়তে ১৬শ’ একর সামাজিক বনায়ন ধ্বংস