নেত্রকোনায় ৪৩৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার ১০ উপজেলায় ৪৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া এ জেলায় ২৫টি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার (এইউইও) পদও শূন্য রয়েছে। এতে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দফতর সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, নেত্রকোনায় নতুন জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয় নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে এক হাজার ২৯৪টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ আছে এক হাজার ২৪৮টি। বাকি ৪৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কোনও অনুমোদিত পদ নেই। অনুমোদিত এক হাজার ২৪৮টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৮০৯ জন। বাকি ৪৬টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে কার্যক্রম।

সূত্র আরও জানায়, জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে তিন লাখ ৫০ হাজার ৫৬৮ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। এর মধ্যে এক লাখ ৬৯ হাজার ৯৪ জন ছাত্র ও ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৬৮ জন ছাত্রী রয়েছে। ওই সব শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন সাত হাজার ৫৫৮ জন।

সূত্র আরও জানায়, কলমাকান্দা উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের ১৫৯টি পদের মধ্যে ৮১টি, আটপাড়ায় ১০১টির মধ্যে ৩৯টি, কেন্দুয়ায় ১৮৩টির মধ্যে ৬২টি, দূর্গাপুরে ১২০টির মধ্যে ৫২টি, সদরে ১৮৬টির মধ্যে ৪৮টি, পূর্বধলায় ১৭৫টির মধ্যে ৪২টি, বারহাট্টায় ৯৩টির মধ্যে ২৯টি, মদনে ৮৭টির মধ্যে ৪১টি, মোহনগঞ্জে ৮৭টির মধ্যে ১৮টি, খালিয়াজুরী উপজেলায় ৫৮টির মধ্যে ২৭টি পদ শূন্য।

অন্য এক সূত্রে জানা গেছে, এ জেলায় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (এইউইও) ৪৬টি পদের মধ্যে ২৫টি শূন্য আছে। এর মধ্যে আটপাড়া উপজেলায় ৪টি পদের মধ্যে ২টি, কলমাকান্দায় ৫টির মধ্যে ২টি, কেন্দুয়ায় ৭টির মধ্যে ৪টি, দুর্গাপুরে ৪টির মধ্যে ২টি, সদরে ৭টির মধ্যে ২টি, পূর্বধলায় ৬টির মধ্যে ৫টি, বারহাট্টায় ৪টির মধ্যে ৩টি, মদনে ৩টির মধ্যে ৩টি ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় ৪টির মধ্যে ২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।

মদন, কলমাকান্দা ও সদর উপজেলার অন্তত ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসঙ্গে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাদের। বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম রিয়াজ উদ্দিন জানান, বিধি মোতাবেক অচিরেই পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।