আমন ক্ষেতে পোকা: মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের না থাকার অভিযোগ

আমন ক্ষেতে পোকাডিমলায় আমন ধানে রোগবালাই দেখা দিয়েছে। কৃষিবিভাগ বলছে আবহাওয়াজনিত কারণে কিছু এলাকায় রোগবালাই দেখা দিয়েছে, কৃষকদের যথাসাধ্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বালাইনাশক ব্যবহার করে এসব রোগবালাই দূর করা সম্ভব। নীলফামারীর ডিমলায় ১০টি ইউনিয়নে কর্মরত আছেন ২৫ জন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা। এদের মধ্যে একজন একটি জাতীয় দৈনিকের রংপুর অফিস প্রধান। তিনি থাকেন রংপুরে। বাকিরা জেলা সদরে অবস্থান করেন। মাঠপর্যায়ে কেউ থাকেন না।

অভিযোগ উঠেছে, ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর নীলফামারী সদরে থাকার কারণে সব কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তারাও ইউনিয়নে না গিয়ে অফিসে আড্ডা, মাঠ দিবস পালন ও উপকরণ বিতরণ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। গ্রামে ভাড়া বাড়ি সংকট দেখিয়ে তারা সেখানে বসবাস করেন না। এমনকি মাসে দু’তিন দিন এলাকায় এসে রংপুরে বসবাস করে মাসিক বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই উপজেলার এরকম অনেক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কর্মস্থলের বাইরে নানা পেশায় যুক্ত আছেন। কৃষকদের অভিযোগ সদর উপজেলায় আমন ক্ষেতে রোগবালাই দেখা দিলেও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের খুঁজে পাচ্ছেন না।

উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, কিছু ক্ষেতের ধানগাছের চারার পাতা মরে যাচ্ছে, আবার কিছু ধানক্ষেত লালচে আকার ধারণ করেছে।

খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দোহলপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল আজিজ বাংলা ট্রবিউনকে বলেন, ‘এমনিতে বন্যাত ধান মরি যায়া ৫৫ টাকা কেজি দরে চাউল কিনি খায়ছি, এলা মোর এক বিঘা জমির ধানের গাছের পাতা মরি যায়ছে, ৫৫ টাকা কেজি চাউল কিনি খামো নাকি ধানত ঔষধ দিমো।’

একই গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি এবার তিন বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি, দুই বিঘা জমিতে ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে, ওই দুই বিঘা জমির ধানগাছের পাতা মরে যাচ্ছে। সেগুলোতে বালাইনাশক দিয়েও কাজ হচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে, গয়াবাড়ি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাদিউল ইসলাম বলেন, ‘যেসব জমিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই, সেসব জমিতে সাধারণত এসব সমস্যা হচ্ছে। ক্ষেতে পানি শুকালে এ সমস্যা থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাকটেরিয়া লিপ ব্লাইট নামের একটি রোগ পাতায় আক্রমণ করছে, এটি অতিমাত্রায় আক্রমণ করলে ধানে চিটা হবে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে তারা বালাইনাশক ছিটিয়ে এ রোগ দমন করছেন।’

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এটিএম শামসুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত সপ্তাহের সোমবার পূর্ব ছাতনাই গিয়ে ঘুরে এসেছি। ডিমলায় বসবাসের জন্য ভালো বাসা পাওয়া যায় না। তাই বাসা নেইনি। রংপুর থেকে সপ্তাহে আসি। তাছাড়া আমি একটি জাতীয় দৈনিকের রংপুর অফিস প্রধান হিসেবে কাজ করি। তাই সব সময় আসা সম্ভব হয় না।’

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩০ জন উপসহকারী কর্মকর্তার মধ্যে ২৫ জন কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে দু’জন নারী কর্মকর্তা তাদের কর্মস্থল এলাকায় থাকেন, বাকিরা সদরে অবস্থান করেন।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ ইদ্রিস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিমলা কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা কর্মস্থলে থাকে কিনা আমার জানা নেই। তাছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাদের বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করেন, তিনি ভালোমত বলতে পারবেন। তবে এ ব্যাপারে কোনও অভিযোগ পাওয়া গেলে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।