তখন সকাল ৬টা। রাজশাহী নগরীর পদ্মাপাড় এলাকায় দোকান খুলে কেবল কলাই রুটিতে তা দেওয়া শুরু করেছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। এসময় হাঁটতে হাঁটতে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। লক্ষ্য, কলাই রুটি খাওয়া। কলাই রুটি শুধু খেলেনই না; এসময় বেশ কিছু ছবি তুলে তা ফেসবুকে পোস্টও করলেন। ছবিগুলোর নিচে লিখে দিলেন ‘শুভ সকাল, রাজশাহী, ০১-১১-০১৭’।
২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক। পরদিন (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী ও কলাই রুটির প্রেমে পড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এ নিয়ে ওই দিনই বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশ হয়েছিল, ‘রাজশাহী আসলে আবার কলাই রুটি খাবো’ শিরোনামে একটি খবর। ওই সময় রাজশাহী ঘুরে ও কলাই রুটি খেয়ে মুগ্ধ ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘রাজশাহী আসলে আবারও কলাই রুটি খাবো। রাজশাহীর প্রেমে পড়ে গেছি, না এসে পারবো না।’ কথাটা যে বলার জন্য বলেননি সেটাই তিনি (ওবায়দুল কাদের) প্রমাণ করলেন আজ (বুধবার)।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) দুই দিনের সফরে রাজশাহী গিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। আর বুধবার সকাল ছয়টার দিকে রাজশাহী নগরীর পদ্মা পাড় এলাকায় হাঁটতে বের হয়ে কলাই রুটি দিয়ে নাস্তা করেন।
ওয়াবদুল কাদেরের ফেসবুকে পোস্ট করা ছবিগুলোতে কলাই রুটি ও চা খাওয়ার দৃশ্যগুলো উঠে এসেছে। ছবিগুলোর নিচে এইচএম মামুন নামে একজন লিখেছেন, ‘ভাই, খুবই স্বাদ, একেবারেই অসাম। জয় হোক আপনার, জয় হোক বাংলার মানুষের, জয় হোক সোনার বাংলার। জয় বাংলা। আমিন।’
মামুন তালুকদার নামে একজন লিখেছেন, ‘স্যারের অসাধারণ সাদামাটা জীবন-যাপন।’ খন্দকার মেহেদি হাসান সুজন মন্তব্য করেছেন, ‘একজন আদর্শ মানুষ, স্যালুট।’ আরিফ আলম মামুন লিখেছেন, ‘সেই তো নেতা, যে সাধারণের মাঝে মিশে যায় অসাধারণভাবে...।’ এমন আরও শত শত মন্তব্য জমা হয়েছে ছবি ক’টার নিচে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় সার্কিট হাউজের পাশে পদ্মাপাড়ে বসে কলাই রুটি দিয়ে নাস্তা শেষে সেতুমন্ত্রী সার্কিট হাউজে ফিরে যান। এরপর সকাল ১১টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ অডিটোরিয়ামে আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরনো সদস্য নবায়ন অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু তাদের আওয়ামী লীগে জায়গা হবে না। যারা খারাপ লোক তাদের দল থেকে বের করে দিতে হবে। আমরা খারাপ লোকের সঙ্গে চলতে চাই না। ভালো লোক সংখ্যায় কম হলেও তাতেই আমরা খুশি। এছাড়া স্বাধীনতাবিরোধী কোনও অপশক্তিও যেন দলের সদস্য হয়ে ঢুকতে না পারে, সেইদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা খারাপ প্রকৃতির লোক, তাদের দল থেকে বের করে দিতে হবে। এসব লোকদের দলে কোনও প্রয়োজন নেই। আচরণ খারাপ হলে উন্নয়নও দলের কোনও কাজে আসবে না। তাই উন্নয়নের আগে নিজেকে আগে ভালো হতে হবে। তাহলেই উন্নয়ন কাজে দিবে।’
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রমাণ হয়েছে বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির নয়, সারা বিশ্বের নেতা। যতদিন এই দেশে পদ্মা-মেঘনা বহমান থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধু মানুষের হৃদয়ে থাকবেন। ইতিহাসে যার নাম লেখা আছে, তার নাম আর কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সদস্য নূরুল ইসলাম ঠান্ডু, রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের এমপি কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারাসহ প্রমুখ।