তারা হলো রায়পুরার উপজেলার চর মরজাল গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রোমান হোসেন (২০), তার বন্ধু সদর উপজেলার কামারগাঁও এলাকার আলম মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (২১) ও সদর উপজেলার নাগরিয়াকান্দি এলাকার মনু মোল্লার বাড়ির ভাড়াটিয়া জহু মিয়ার ছেলে মো. রেজাউল করিম।
বুধবার (১ নভেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জবানবন্দিতে তারা আজিজাকে নরসিংদী সদর এলাকায় শ্লীলতাহানী করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও পরে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছিল বলে স্বীকার করেছেন।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এসময় আজিজার ভাই সুজন মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে আজিজার খালা তারাবানু ফোন করে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে রাজি হয়ে আজিজার কোনও ক্ষতি না করার জন্য অনুরোধ জানান। এতে রাজি হয়ে ওই প্রেমিক চক্র আজিজার সঙ্গে থাকা মোবাইল সেট, গহনা ও টাকা রেখে দিয়ে মুক্তিপণ না দিলে আবারও ইন্টারনেটে অশ্লীল ভিডিও ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আজিজাকে ছেড়ে দেয়। পরে আজিজা রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি ফিরে যায়। রাত নয়টার দিকে স্থানীয়রা আজিজাকে বাড়ির পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় আজিজা।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি জানান, ফেরার সময় আজিজা বাড়ির পাশের বাজারের মিজানের দোকান থেকে ১ লিটার কেরোসিন তেল কিনে নিয়ে যায় বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে আজিজার চাচী বিউটি বেগমসহ চারজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা তিন জনকে আসামি করে শিবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা আব্দুস সাত্তার। পরে সিলেটের বিশ্বনাথ এলাকা থেকে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি বিউটি ও তার মা সানোয়ারা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন শিবপুর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আরও পড়তে পারেন:
আজিজা হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ২
দগ্ধ কিশোরীর মৃত্যু: স্বজনদের দাবি হত্যা, পুলিশ বলছে আত্মহত্যা