৪ মাসেও জলমহালের দখল পাচ্ছেন না মৎস্যজীবীরা

সুনামগঞ্জখাজনা পরিশোধের ৪ মাস ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গিয়া বিল জলমহালের দখল পাচ্ছেন না মৎসজীবীরা। স্থানীয় প্রভাবশালীদের এই জলমহাল বরাদ্দ দেওয়ার জন্যই উপজেলা প্রকৌশলী তাদের দখল দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের। জলমহালের দখল পেতে ২৫ সদস্যের পক্ষে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেছেন মৎসজীবীদের সংগঠনের সভাপতি।
মৎসজীবীদের আবেদনের সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গিয়া বিলের আয়তন তিন দশমিক ৬৩ একর। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে বাস্তবায়িত হাওর অঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের (হিলিপ) মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের এই জলমহালের ইজারার জন্য আবেদন করেন মৎসজীবীরা। এর জন্য তাদের সংগঠনের তহবিল থেকে গত ১১ জুন ৫৮ হাজার ১৬০ টাকা পরিশোধ করা হয়। খাজনা পরিশোধের পর বিলে মাছ উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বাঁশ-কাঠা দিয়ে পরিচর্যা করেন। কিন্তু খাজনা পরিশোধের ৪ মাস ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও জলমহালের দখল বুঝিয়ে দিচ্ছেন না উপজেলা প্রকৌশলী।
রাঙ্গিয়া বিল ব্যবহারকারী সংগঠনের সভাপতি বকুল চন্দ্র দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও এলজিইডি প্রকৌশলীর কাছে দখল পাওয়ার জন্য আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি।’
জামালগঞ্জের উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বকুল চন্দ্র বলেন, ‘‘প্রকৌশলী প্রতিপক্ষের দ্বারা ‘ম্যানেজ’ হয়ে যাওয়ায় আমাদের কাছে জলমহাল বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। অথচ প্রতিপক্ষ সমিতির সদস্যদের অধিকাংশ ব্যক্তিই ধনী ও অবস্থাসম্পন্ন। তাদের মধ্যে একজন প্রবাসীও রয়েছেন।কিন্তু তাদেরই জলমহাল দিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন জামালগঞ্জের প্রকৌশলী।’
তিনি আরও বলেন, ‘হতদরিদ্র মৎসজীবীরা শেষ সঞ্চয়টুকু দিয়ে সমিতির মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করেছে। এখন জলমহালের দখল বুঝে না পেলে এসব সদস্যকে পথে বসতে হবে।’
এদিকে, মৎসজীবীদের অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো তাদের সংগঠনের সভাপতি বকুল চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলীর নামে কোনও খাজনা হয় না। অনিয়ম করছে বকুল চন্দ্র দাস। রাঙ্গিয়ার বিল একজনের নামে পাঁচ বছরের জন্য ইজারা রয়েছে। কিন্তু বকুল চন্দ্র দাস অফিসের একজনকে ঘুষ দিয়ে সেটা নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এ কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে।’
সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে শিপলু কর্মকার বলেন, ‘বকুল চন্দ্র দাসের নামে তিনটি বিলের ইজারা রয়েছে। আর প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী যাদের নামে একটি বা দু’টি বিলের ইজারা রয়েছে, তাদের নতুন কোনও ইজারা দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমি একা কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। জলমহালটির ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী হবে।’
আরও পড়ুন-
হবিগঞ্জে আগুনে পুড়লো ২০টি দোকান, দগ্ধ ব্যবসায়ী
সিসিক’র গাড়ি নিখোঁজ: জিডি করে ভুলে যান কর্মকর্তা