হেমন্তের
পাড়ায়-মহল্লায় ধুনকরের টুং টাং আওয়াজ আর বাতাসে উড়ে বেড়ানো তুলা জানিয়ে দিচ্ছে- শীত আসছে। তাই জমে উঠতে শুরু করেছে লেপ বানানোর দোকানগুলো, প্রাণচাঞ্চল্য বাড়ছে কারিগরদের, আসন্ন শীত ধুনকরদের মধ্যে নিয়ে এসেছে ব্যবসার উষ্ণতা।
গত চার-পাঁচ দিন থেকে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধুনকররা তুলা, কাপড় ও ধুনার নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন। কেউ সাইকেলে, কেউবা ভ্যানে আবার কেউ পায়ে হেঁটে ঘুরছেন বরিশাল নগরীসহ পাশের এলাকাগুলোতে। প্রতিদিনই দুয়েকটা করে লেপ বানারো অর্ডার আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
ধুনকর ফিরোজ মিয়া জানান, এক সপ্তাহ আগেও তেমন কাজ-কর্ম ছিল না। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ভোরের হালকা কুয়াশায় শীতের আমেজ নেমে এসেছে। এতেই লেপ তৈরির অর্ডার শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবারেই দোকানে ১১টি লেপের অর্ডার পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আরেক ধুনকর আলী আহমদ বলেন, ‘ উত্তরের দিক থেকে হালকা বায়ু প্রবাহ সবে শুরু হয়েছে। আর কয়েকদিন পর রাত-দিন সমানতালেই কাজ করতে হবে আমাদের। আপাত পুরনো লেপ ভেঙে নতুনভাবে তৈরির অর্ডারই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সেই সঙ্গে গার্মেন্টসের তুলা দিয়ে তৈরি লেপও বিক্রি হচ্ছে।’
ধুনকরার জানান, রেডিমেড লেপের দাম সিঙ্গেল ছয়’শ টাকা, আর ডাবল সাইজের লেপ হাজার টাকারও বেশি। এ ছাড়া ভালো তুলা দিয়ে নুতনভাবে একটি সিঙ্গেল লেপ তৈরি করতে খরচ পড়ছে এক হাজার টাকা, আর ডাবল লেপ তৈরিতে খরচ হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। আর সিঙ্গেল তোষক পাঁচশ ৫০ টাকা এবং ডাবল ৯শ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার লেপ-তোষক তৈরিতে এক’শ থেকে দুই’শ টাকা বেশি লাগছে। কারণ কাপড় ও তুলার দাম বেড়েছে। এছাড়া বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কারিগরদের মজুরিও বেড়েছে।