বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) দুপুর ৩টায় বেইন কর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্যে দিয়ে বেইনঘর উদ্বোধন করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। এসময় রানী ইয়েন ইয়েন ও রাজবন বিহারের আবাসিক প্রতিনিধি প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির ও উপাসক-উপাসিক পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে চাকমা রানি ইয়েন ইয়েন চরকায় সুতা কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
এসময় রাজবন বিহার উপাসক/উপাসিকা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান, সহ-সভাপতি নিরূপা দেওয়ানসহ সব উপাকসক ও উপাসিকা উপস্থিত ছিলেন।
চীবর তৈরির পর শুক্রবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১টায় শোভাযাত্রাসহ কঠিন চীবর ও কল্পতরু মঞ্চে আনা হবে। পঞ্চশীল গ্রহণের পর দুপুর আড়াইটায় বনভান্তের মানব প্রতিকৃতির উদ্দেশে কঠিন চীবর উৎসর্গ হবে। এসময় বনভান্তের প্রতিনিধি হিসেবে এ চীবর গ্রহণ করবেন আবাসিক প্রতিনিধি শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির।
তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আড়ম্বরের সঙ্গে এ দানোৎসবের আয়োজন করা হয় রাঙামাটির রাজবন বিহারে। প্রতিবছরই আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠান। এ বছরও এই আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছে রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের সঙ্গেও এ নিয়ে উপাসক-উপাসিকা পরিষদের কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজবন বিহার উপাসক/উপাসিকা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামীকাল (শুক্রবার) সকাল ৬টায় বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হবে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে দেব-মানব তথা সকল প্রাণীর হিতার্থে ধর্মদেশনা। এতে রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির উপস্থিত থাকবেন।’
চরকায় সুতা কাটার পর রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, ‘বিশাখা প্রবর্তিত এই চীবর অনুষ্ঠান বর্তমানে সার্বজনীন রূপ গ্রহণ করেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে এরপর চীবর তৈরি করা হয়। নারী-পুরুষ সবাই মিলে উৎসবমুখর এক পরিবেশে এই আয়োজনে অংশ নেয়।’
আরও পড়ুন-
ফেনীতে বাসে আগুন: বিএনপির ১৩ নেতাকর্মী কারাগারে
বাম্পার ফলনেও হাসি নেই বরিশালের আমড়া চাষিদের মুখে
নির্ধারিত সময় শেষ, হিলিতে লাইসেন্স নেননি বেশিরভাগ চাল ব্যবসায়ী