‘বিচার ছাড়া আমরা যাবো না’

রোহিঙ্গা মোহাম্মদ উল্লাহ‘বিচার ছাড়া আমরা যাবো না। আমরা হক বিচার চাই। আমাদের অধিকার নিশ্চিত হলে যেতে প্রস্তুত আছি। এর বাইরে হলে আমরা এখানেই থাকবো। এখানে থেকে না খেয়ে মারা যাবো, তবুও মিয়ানমার ফিরে যাবো না।’ মিয়ানমার সরকার আপনাদের ফিরিয়ে নিতে চাইলে যেতে রাজি আছেন কিনা জানতে চাইলে এভাবেই উত্তর দেন ৬৭ বছর বয়সী মাহমুদ উল্লাহ।

মংডুর সাহাব বাজার এলাকার বাসিন্দা মৃত লোকমান হোসেনের ছেলে এই বৃদ্ধ একমাস ধরে কুতুপালং নতুন ক্যাম্পের আই ব্লকে পরিবার নিয়ে থাকছেন। গত ২৯ অক্টোবর তার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি মিয়ানমার ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কতগুলো শর্ত তুলে ধরেন।

মাহমুদ উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের জাতীয়তা দিতে হবে, জায়গা-জমি ফিরিয়ে দিতে হবে, আমাদের মাদ্রাসা, হেফজখানা যেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলো আবার তৈরি করে দিতে হবে, আমরা যেন গিয়ে পড়তে পারি। এছাড়া, আমরা যেন পুরো বর্মা মুল্লুকে চলাচল করতে পারি সেই সুযোগ দিতে হবে। আমাদের এই দাবি নিশ্চিত করলে আমরা যেতে প্রস্তুত আছি। এর বাইরে হলে আমরা যেতে রাজি নই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের হুকুমত (বাংলাদেশ সরকার) যদি আমাদের মেরে ফেলে তাহলে আমরা মরে যেতে রাজি আছি। এখানে মারা গেলে জনতা পাবো, কাফন মিলবে। কিন্তু ওখানে গেলে জনতাও পাবো না, কাফন পাবো না। এজন্য আমরা মুসলমান রাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছি।’

নুরুল বশিরএকই রকম কথা বলেন নুরুল বশিরও। মংডুর এই বাসিন্দা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জীবন বাঁচাতে আমরা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে এসেছি। ফিরে যাওয়ার পর যদি আবার তারা আমাদের অত্যাচার করে, তাহলে আমরা যাবো কোথায়? তাই তারা যদি আমাদের শর্তগুলো মেনে নেয়, আমরা ফিরে যেতে রাজি আছি। না হলে আমরা এ দেশে থেকে মারা যাবো, তবুও ওই দেশে ফিরে যাবো না।’

গত ২৮ ও ২৯ অক্টোবর বালুখালী ও কুতুপালং ক্যাম্পে এই প্রতিবেদক অন্তত ৫০ জন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন। তারা সবাই বলেছেন, মিয়ানমার সরকার যদি তাদের শর্তগুলো মেনে নেয়, তবেই তারা সে দেশে ফিরে যাবেন। না হয় তারা এই দেশে থেকে যাবেন। যত কষ্টই হোক, প্রয়োজনে না খেয়ে থাকবেন। তবুও তারা ফিরে যাবেন না।

সম্প্রতি মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানিয়েছে, দেশটি রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায়। ওই পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশটির নেত্রী অং সান সু চির মুখপাত্র জাউ তায় বলেন, ১৯৯২ সালের যৌথ ঘোষণা অনুসারে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে প্রস্তুত রয়েছে মিয়ানমার।

রাখাইনে ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া দেশটির সেনাবাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অভিযানের মুখে এ পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ধারণা করা হয়, এ সময়ে তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে এবং ২৮৪টি রোহিঙ্গা গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।