সিরাজগঞ্জে নিখোঁজ কলেজছাত্রী ৬ দিন পর কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার

 

সিরাজগঞ্জসিরাজগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একছাত্রীকে নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। সদর থানা পুলিশের সহায়তায় বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর)  রাতে কুষ্টিয়া থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই কলেজছাত্রীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর অনার্স পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ওই ছাত্রী।
পুলিশের সূত্র জানায়, কলেজছাত্রীর বাবা একজন সরকারি কর্মচারী। দুই মাস আগে কলেজছাত্রীর বিয়ে হলেও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়নি। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া প্রবাসী তার এক বন্ধুর প্ররোচণায় ছয় দিন আগে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
মেয়েটির ভাই সিরাজগঞ্জ সদর থানায় নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করেন। এরপর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে। তবে  শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।
কলেজছাত্রীর বাবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কুমার কানুর ছেলে প্রতিক কুমার পাপন আমার মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। দু’মাস আগে আমার মেয়েটির বিয়ে হলেও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়নি। এ অবস্থায় আমার বিবাহিত মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেয় মালেশিয়ায় অধ্যায়নরত প্রতিক। সে মালয়েশিয়া থেকে দেশে তার বন্ধুদের মাধ্যমে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আমার মেয়েকে মালয়েশিয়ায় ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশের সহায়তায় মেয়েকে ছয় দিন পর উদ্ধার করা হয়।’ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও বিষয়টি জানেন। তাদের পরামর্শে ঘটনার বিষয়ে মামলা বা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে মেয়েটির বাবা  জানান।

সদর থানার ওসি হেলাল উদ্দিন ও উপ-পরিদর্শক আবু জাফর জানান,গত ২৮ অক্টোবর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের গাড়িচালকের সদ্য বিবাহিত মেয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অনার্স পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। তার ভাই সদর থানায় জিডি করেন।

ওসি হেলাল উদ্দিন  বলেন, ‘এরপর মেয়েটির সন্ধানে মোবাইল কল লিস্টের সূত্র ধরে জানতে পারি, মেয়েটি রাজশাহীর সাহেববাজার এলাকায় অবস্থান করছেন। এসময় তিনি মালয়েশিয়ায় দু’টি ও সিরাজগঞ্জের কয়েকটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন। ৩০ অক্টোবরের পরে মেয়েটি রাজশাহী ত্যাগ করে কুষ্টিয়ায় অবস্থান নেন।’

তিনি বলেন, ‘গত ২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) কুষ্টিয়ায় অবস্থানরত সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষকের বাড়ি থেকে  কলেজছাত্রীকে  উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতেই মেয়েটিকে তার বাবার হেফাজতে দেওয়া হয়। এ নিয়ে কোনও পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।’

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কুমার কানু বলেন, ‘উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর সেপ্টেম্বর মাসে ছেলেকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেই। এরপর অন্য জায়গায় মেয়েটির বিয়ে হয় এবং তার স্বামী তাকে নির্যাতন শুরু করে। এ কারণে বন্ধুত্বের খাতিরে আমার ছেলে ওই মেয়েটিকে সহযোগিতা করার জন্য যোগাযোগ করতে থাকে। বিষয়টি সমাধানে পরামর্শ নেওয়ার জন্য আমার ছেলে ওই মেয়েটিকে কুষ্টিয়ায় অবস্থানরত তাদের এক সাবেক শিক্ষকের কাছে যেতে বলেছিল। তাকে বিয়ে করা, বা বিদেশে নিয়ে যাবার কোনও বিষয় ছিল না।’

আরও পড়ুন: 

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব সংলাপ রবিবার