জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে

সংবাদ সম্মেলনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাজেদুর রহমান শাহীনবগুড়া জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর ইব্রাহিম হোসেনের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ উঠেছে।  জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই যুগ্ম সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান শাহীন ও জুলফিকার রহমান শান্ত এই অভিযোগ করেছেন। রবিবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন থেকে শ্রমিক লীগ নেতা ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ও রাজনীতিতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও খরন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান শাহীন অভিযোগ করেন, মাদক সেবন ও ব্যবসাসহ নানা অপরাধে বাধা এবং জামায়াত-শিবিরের সঙ্গ ছাড়তে অনুরোধ করায় শ্রমিকলীগ নেতা বগুড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইব্রাহিম হোসেন ক্ষুব্ধ হন। ১৫ দিন আগে তার ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরেক যুগ্ম সম্পাদক পাকুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান শান্ত’র বিরুদ্ধে মাদক সেবন, বিক্রি ও হত্যার হুমকির অভিযোগে সদর থানায় জিডি করেছেন। হত্যার হুমকি দেওয়া ছাড়াও গত ৩ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে দু’জনের শহরের সেউজগাড়ির বাসায় ইব্রাহিম ও তার বাহিনীর লোকজন হামলা চালান। বাসা থেকে বের হলে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে করা জিডির অন্তত এক হাজার কপি এলাকায় বিতরণ করেন।

সাজেদুর রহমান শাহীন বলেন, ‘অনৈতিক কাজে জড়িত থাকায় প্রায় ৩ বছর আগে ইব্রাহিমকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর তিনি শ্রমিক লীগে যোগ দেন। কাউন্সিলর ইব্রাহিম এলাকায় মাদক বন্ধে মাইকিং ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করলেও সেটা ছিল তার লোক দেখানো। তিনি নিজেই মাদক, চোরাচালান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরে জানা যায়, তার মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজির সুবিধার্থে এসব করেছিল। ইব্রাহিম আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা করেন। তাদের নিয়ে দলীয় সভা-সমাবেশে অংশ নেন। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা যেকোনও অঘটন ঘটাতে পারে। এছাড়া ওই সংগঠনের দায়িত্বশীলদের  পরামর্শেই স্বেচ্ছাসেবক লীগকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করতেই ইব্রাহিম এসব করছে।’

সাজেদুর রহমান শাহীন তদন্ত সাপেক্ষে শ্রমিক লীগ নেতা পৌর কাউন্সিলর ইব্রাহিম হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজি, ডিআইজি ও বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রশাসন দায়ী থাকবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে রবিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে মোবাইল ফোনে অনেক বার ফোন করলেও ইব্রাহিম হোসেন ধরেননি। তার শ্যালক পরিচয়দানকারী শিপলু নামে একজন জানান, ইব্রাহিম জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক। তিনি এর বেশি আর কিছু বলতে রাজি হননি।