জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে মোট ৪৪১টি অভিযান পরিচালনা করে অধিদফতর। এসব অভিযানে ১১০টি মামলা করা হয়েছে; এর মধ্যে নিয়মিত মামলা ৬২টি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলা ৪৮টি। এসব অভিযানে দায়ের করা মামলাগুলোতে মোট ১৩৮ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে ১০৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকি ৩৩ জন পালাতক রয়েছে।
অধিদফতর জানিয়েছে, এসব অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের তালিকায় রয়েছে ২ কেজি ২৩৬ গ্রাম হেরোইন, ২ হাজার ৫৫৪ পিস ইয়াবা, ১৭৯ বোতল ফেন্সিডিল, ২৩ কেজি ৫২৬ গ্রাম গাঁজা, ২৩০ লিটার তাড়ি, ৭ লিটার রেক্টিফাই স্পিরিট ও ৮ লিটার চোলাই মদ। এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৩৫ লাখ ৪৯ হাজার ২২০ টাকা।
কুষ্টিয়া জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা মাদক প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল কলেজে সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ করেছি। মাদক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তরুণদের একত্রিত করে মাদকের বিক্রি বন্ধ করাতে সক্ষম হয়েছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এসব কাজে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছে।’ সাধারণ জনগণ এগিয়ে এলে মাদক প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সামান্য জনবল নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। মাদকের বিস্তার রোধে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করা হচ্ছে। প্রতিটি স্কুল ও কলেজে মাদকবিরোধী কমিটি করে মাদকের কুফল সম্পর্কে আলোচনা করে সবার মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাদকবিরোধী ফুটবল খেলার আয়োজনও করা হয়েছে।’
অধিদফতরের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে না পারলে আমরা কখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব না। তাই মাদক থেকে তরুণদের দূরে রাখতে, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে অধিদফতর সবসময় সচেষ্ট থাকবে।’