চোরাই তেলসহ ট্যাংকার জব্দ: ১৭ জনের নামে মামলা

এমটি রায়দাহ (ছবি: খুলনা প্রতিনিধি)খুলনার ভৈরব নদ থেকে চোরাই তেলসহ ট্যাংকার জব্দের ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) রাতে র‌্যাব-৬ এর সদস্য শামসুল কবির বাদী হয়ে খুলনার দিঘলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ‘এমটি রায়দাহ’ জাহাজের পাঁচ কর্মকর্তা, যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিডেটের চট্রগ্রাম প্রধান কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তা, এবং কয়েকজন তেল চোরাকারবারিকে আসামি করা হয়েছে। জাহাজের পাঁচ কর্মকর্তা আটক রয়েছেন।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘র‌্যাবের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ১৭ আসামির মধ্যে পাঁচ জনকে থানা পুলিশে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। মামলায় পাঁচ লাখ ৩১ হাজার টাকা মূল্যের সাড়ে আট হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার দেখানো হয়েছে।’

আটককৃতরা হচ্ছেন- উর্মি নেভিগেশনের ‘এমটি রায়দাহ’ জাহাজের ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম, মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, সহকারী মাস্টার, টেন্ডল জাহাঙ্গীর আলম ও চোরাকারবারি সুমন। এছাড়া স্থানীয় চোরাকারবারি পলাশসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন রয়েছে।

র‌্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, তেল পাচারের সঙ্গে যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিডেটের চট্রগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজনের যোগসাজশ পাওয়া গেছে। যে কারণে মামলায় যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিডেটের টার্মিনাল ম্যানেজার (টিএম), ডিউটি অফিসার ও লোডআনলোড কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আসামিদের মধ্যে আটক ‘এমটি রায়দাহ’ জাহাজের সুপার ভাইজার আবু হাসনাত টিটুসহ পাঁচ কর্মকর্তা এবং কয়েকজন তেল চোরাকারবারিও রয়েছে। তবে টিটু পলাতক রয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার রাতে র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা খুলনার ভৈরব নদী সংলগ্ন যমুনা তেল ডিপোর নোঙর করা তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি রায়দাহ’ থেকে তেল পাচার করার অভিযোগে জাহাজের প্রকৌশলী, কাপ্তান, মাস্টার এবং বিপুল পরিমাণ চোরাই তেলসহ ১৩ জনকে আটক করে। এ সময় পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাই তেল উদ্ধার করা হয়। তবে যাচাই-বাছাই করে পাঁচ জনকে আটক রেখে জাহাজের অন্য কর্মচারীদের ছেড়ে দেওয়া হয়।