মাছ উৎপাদনে উৎসাহ দিতে অনেক মানুষকে সহায়তা দিয়ে আসছে মৎস্য অধিদফতর। তাদেরই একজন নারী উদ্যোক্তা লাভলী ইয়াসমিন।
জানা গেছে, ২০০১ সালে গ্রামের একটি পুকুর লিজ নিয়ে তিনি রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভারকার্প মাছ চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই সাফল্যের মুখ দেখেন তিনি। পরের বছর গ্রামের আরও দুটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষের বিস্তৃতি বাড়ান। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি লাভলীকে। বর্তমানে তিনি এলাকার আট একর জমিতে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভারকার্প, গ্লাসকার্প, সাদাপুটি, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছেন।
আরও জানা গেছে, মাছ চাষের পাশাপাশি তার মৎস্য খামারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে ২০ জন নারী-পুরুষের। তিন সন্তানের জননী লাভলী ইয়াসমিনের স্বামী ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বেকার ছিলেন। ওই সময় তিন সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করেছেন মৎস্য চাষ করেই। বর্তমানের তার বড় ছেলে কামরুজ্জামান তানজীব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, দ্বিতীয় ছেলে রাকিবুজ্জামান তানভীর বিএসসি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ছোট ছেলে হাসিবুজ্জামান রাহাত ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কমার্স কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
উল্লেখ্য, লাভলী ইয়াসমিন ২০১২ সালের ১৩ জুন কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সরকারিভাবে মালেশিয়ায় একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেন। ১৬ বছরের সংগ্রামী জীবনে লাভলী ইয়াসমিনের সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই এখন আগ্রহী হয়ে উঠেছেন মাছ চাষে।
মাছ চাষের বিষয়ে লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ‘মাছ চাষ করে আমি সফল। জেলেরা যখন পুকুর থেকে মাছ ধরে তখন আমি আনন্দিত হই। এলাকায় আমি ২০টি গ্রুপকে ট্রেনিং করিয়েছি। সেখানে ৪০ জন মহিলা ছাড়াও অনেক পুরুষ ছিলেন। এখন মাছের পোনা ও মাছ কেনার জন্য অনেক মৎস্য ব্যসায়ীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সরকারি কর্মকর্তারাও আমার খোঁজ খবর নেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমি নিজেদের ও লিজ নিয়ে ৭টি পুকুরে মাছ চাষ ও পোনা উৎপাদন করছি। মহিলারা স্বামীর ওপর কেন নির্ভরশীল থাকবে? সব মহিলা যদি উদ্যোগী হয়ে বাড়ির আশ পাশের খানা বা পুকুরে মাছ চাষ করেন তাহলে আর্থিকভাবে তারা লাভবান হবেন। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে।’
পাশ্ববর্তী পোড়াহাটি গ্রামের বসুদেব বিশ্বাসের ছেলে রেনু গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘লাভলী ইয়াসমিন নারী হয়েও মাছ চাষের ওপর যে কাজ করছেন তা এলাকাবাসীর কাছে দৃষ্টান্ত। আমরা তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষ করছি। অন্যরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তিমির বরণ মণ্ডল বলেন, ‘সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে লাভলী ইয়াসমিনকে সব প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’