রাবি ও রুয়েটের ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ

 

ইয়াবা (ফাইল ছবি)ইয়াবা ব্যবসা চক্রের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ৪৪ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাদক অধিশাখা। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দফতরে চিঠি দিয়েছে মাদক অধিশাখা।

ওই তালিকায় রয়েছেন রাবির ছয় জন শিক্ষক, আট জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১১ জন ছাত্রলীগ নেতা, তিন জন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ছয় জন সাধারণ শিক্ষার্থী। অপরদিকে রুয়েটের একজন শিক্ষক, দুই জন ছাত্রী, সাত জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে গোপন ওই তালিকায়।  এছাড়া রাজশাহী অঞ্চলভুক্ত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) চার জন কর্মকর্তার নামও ইয়াবা চক্রের তালিকায় উঠে এসেছে।

তবে ওই প্রতিবেদনে থাকা কয়েক জনের নাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। ‘এহসান’ নামে পরিসংখ্যান বিভাগের মাস্টার্সের একজন ছাত্রের নাম তালিকায় উল্লেখ করা হলেও বিভাগে খোঁজ নিয়ে ওই নামে কাউকে পাওয়া যায়নি।  আর তালিকা প্রণয়নে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত শত্রুতার প্রতিফলন’ ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গোপন প্রতিবেদনে মন্তব্যে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে গুটি কয়েক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারী, বহিরাগত ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কিছু অসৎ সদস্য এবং ভাসমান দোকানপাটের অসৎ ব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাসে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সরবারহে সহযোগিতা করছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। তারা পড়ালেখায় আগ্রহ হারাচ্ছে এবং অনেকে অকালে তাদের শিক্ষাজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর অভাব অনুভূত হচ্ছে, অপরদিকে জাতি মেধাশূন্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  এছাড়া মাদকাসক্ত এসব ছাত্র-ছাত্রী মাদকের অর্থের যোগান দিতে গিয়ে পড়ালেখা থেকে বিচ্যুত হয়ে ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসে বাইরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজি করে সামাজিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে।’

এছাড়া প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘ইয়াবাসহ মাদক ব্যবহার বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে অন্য শিক্ষাঙ্গণগুলোতেও তা ছড়িয়ে পড়বে। ইয়াবার এরূপ ব্যবহার চলতে থাকলে জাতি মেধাশূন্য হয়ে পড়বে এবং কর্মস্পৃহা হারিয়ে বেকার থেকে দেশের বোঝা হয়ে পড়বে। মাদকের অর্থ সরবারহ করে জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাদকাসক্তদের ম্যানেজ করে ক্যাম্পাসে অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পেতে পারে।  এতে অশ্লীলতা ও পাশবিকতা এবং ছাত্রীদের হয়রানি বৃদ্ধি পেতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদেরও মাদকে জড়িয়ে পড়া জাতির জন্য অশনি সংকেত বৈ কিছু নয়।’

ওই প্রতিবেদনে চারটি সুপারিশও করা হয়েছে। এক. জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। দুই. ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলসমূহে বহিরাগতদের সীমিত আকারে প্রবেশ কিংবা প্রয়োজনে বহিরাগতদের আগমনে নতুন কার্যকরী কৌশল গ্রহণ। তিন. ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অনুমোদিত ব্যতীত ও ভাসমান চা-পানের দোকান উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা।  চার. ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী মেস সমৃদ্ধ এলাকায় স্থাপিত হোস্টেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আকস্মিক তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত।  মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে পুলিশ কাউকে অযথা হয়রানি করবে না, তথ্য-প্রমাণ মিললে তবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’