হাতিয়ায় আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ওসিসহ আহত ৪০





আহত একজননোয়াখালীর হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হাতিয়া থানার ওসিসহ ৪০জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অলিউল্যার ছেলে শিবলি। এ সময় হাতিয়া উপজেলা, পৌর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ অফিসও ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কামাল উদ্দিন ও আওয়ামী লীগ কর্মী মাসুম রিয়াজসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম ও হাতিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহতরা হলেন হাতিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার, এসআই স্বপন, এসআই মিজান, এএসআই আশিক, কনস্টেবল রবিউল, কনস্টেবল দেলোয়ার, যুবলীগ কর্মী নুর আলম (৪৫), আলতাফ উদ্দিন (৩৭), সাখাওয়াত (৩২), এমরান (৩০), আবুল কালাম (২৮), ছাইফুল (১৬)। অপর আহতদের নাম ও পরিচয় পাওয়া যায়নি। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বুড়িরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়া আলী মোবারক কল্লোল জানান, শনিবার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে একটি যুব সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে হাতিয়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস প্রধান অতিথি ছিলেন। এ সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে রওয়ানা হয়। মিছিলকে বাধা দিতে সাবেক সংসদ সদস্য অলিউল্যার অনুসারীরা ও হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও মিছিলে হামলা চালায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে অধ্যাপক অলিউল্যা সমর্থিত কর্মীরা সভা শেষে আওয়ামী লীগ নেতা সাইফউদ্দিনের বাসায় অবস্থান নেয়। পরে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌসের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে পৌর আওয়ামী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট সাইফউদ্দিনের বাসার সামনে ২ পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মীরা অধ্যাপক অলিউল্যার বাসায় ঢুকে গুলি চালায়। তখন তার ছেলে শিবলি গুলিবিদ্ধ হয়। আওয়ামী লীগের কর্মীরা হোটেল রেশমি ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফউদ্দিন বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতে মোহাম্মদ আলীর কর্মীরা তার ও আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক অলিউল্যা, চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদ, আলা উদ্দিন আল আজাদের বাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটসহ তাণ্ডব চালিয়ে গেলেও তাদের গ্রেফতার না করে নিরাপরাধ নেতাকমীদের গ্রেফতার করেছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম ও হাতিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার জানান, আওয়ামী লীগের নেতা অলিউল্যা সমর্থিতরা সভা শেষে সাইফ উদ্দিনের বাসা থেকে অপর গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এতে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ সংঘর্ষ ঠেকাতে চেষ্টা করার সময় তিনিসহ এসআই স্বপন, এসআই মিজান, এএসআই আশিক, কনস্টেবল রবিউল, কনস্টেবল দেলোয়ার আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৫০ রাউন্ড ও ২০ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। ওছখালী ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।